প্রশাসন

পরিবহন ব্যবস্থা বন্ধ থাকায় বিপাকে ঢেঁড়স ব্যবসায়ীরা

খায়রুল আনাম সম্পাদক আয়না টেলি নিউজ,

পরিবহন ব্যবস্থা বন্ধ থাকায় বিপাকে ঢেঁঁড়স চাষিরা
   
এই করোনাকালে বিপর্যয় এখন বহুমুখী।  কৃষিজীবিদের এহেন পরিস্থিতিতে  সমস্যার অন্ত নেই। সেইসাথে নানাবিধ প্রাকৃতিক বিপর্যয় তাঁদের সমস্যার আঙ্গাড়ে সেঁঁকে দিচ্ছে। ইয়াসের মতো প্রাকৃতিক বিপর্যয়  বহুক্ষেত্রে  দুরমুশ করে দিয়েছে কৃষি অর্থনীতিকে। গ্রীষ্মকালীন ধান চাষের পাকা ধান ও খড় ঘরে তুলতে পারেননি বহু কৃষিজীবী।  এরফলে শুধুমাত্র যে মানুষের খাদ্যের জোগানে টান পড়ছে তাই নয়, টান পড়ছে পশুখাদ্যেও।  অথচ প্রশাসনিক হট্টমেলায় উহ্য থেকে যাচ্ছে এই জরুরী  এবং গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি।    বিভিন্ন সময় কৃষিক্ষেত্রে সেচের জলের সমস্যা  এবং ভূগর্ভস্থ জলোত্তলন কমিয়ে স্বল্প জলের সেচের চাষের কথা বলা হয়েছে। এবং তাতে অন্যান্য চাষের  চেয়ে আয়ও বেশি বলে সরকারি আধিকারিকরা শীততাপ নিয়ন্ত্রিত ঘরে বসে মাথা ঘামিয়ে ও খাটিয়ে এজন্য অঙ্ক কষে পরিসংখ্যানও তৈরী করেছেন। আর সেই অঙ্ক গলাধঃকরণ করে এখন ঋণের দায়ে গলাকাটা অবস্থা হয়েছে জেলা বীরভূমের  মুরারই-১ ব্লকের  বঠিয়া এলাকার ঢেঁঁড়স চাষিদের।    সরকারি বিভিন্ন প্রকল্প-পরিকল্পনা এবং প্রথাগত চাষের বাইরে বেরিয়ে এসে এই এলাকার বেশকিছু চাষি বিকল্প চাষ হিসেবে ঢেঁঁড়স চাষের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে আধুনিক পদ্ধতিতে ঢেঁঁড়স চাষ শুরু করেন। আগেও এই এলাকায় অল্পবিস্তর জমিতে ঢেঁঁড়শ চাষ হলেও বিগত কয়েক বছর ধরে এলাকায় আধুনিক পদ্ধতিতে ঢেঁঁড়স চাষ শুরু হয়। তাতে ঢেঁঁড়স চাষিরা লাভের মুখও দেখছিলেন।  সেই সূত্রেই এবার এলাকার তিনশো বিঘার বেশি জমিতে ঢেঁঁড়স চাষ হয়েছে। সেই ঢেঁড়স ভালো দামে বিক্রিও হচ্ছিল। কিন্তু বিপত্তি দেখা দেয় লকডাউন শুরু হতেই। এখানকার উৎপন্ন ঢেঁঁড়স যে কেবলমাত্র স্থানীয় বাজারে বিক্রি হয় তাই  নয়, এই ঢেঁঁড়স কিনতে পার্শ্ববর্তী মুর্শিদাবাদ জেলা ছাড়াও দুই প্রতিবেশী রাজ্য ঝাড়খণ্ড এবং বিহারের  পাইকাররাও আসেন। তাঁরা এখান থেকে পাইকারি দামে ঢেঁঁড়শ কিনে তা যাত্রীবাহী বাসের ছাদে চাপিয়েই নিয়ে যান। এতে পরিবহন খরচও কম পড়ে। কিন্তু এখন লকডাউন পর্ব চলায় পরিবহন ব্যবস্থা বন্ধ থাকায় চরম বিপাকে পড়েছেন এখানকার ঢেঁঁড়স চাষিরা। বন্ধ হয়ে গিয়েছে বাইরের পাইকারদের আসা-যাওয়া। কিছুদিন আগে পর্যন্ত যে ঢেঁঁড়স পাইকারিভাবে  ১৪ থেকে ১৫ টাকা  কেজি দরে বিক্রি হয়েছে, এখন তা কেজি প্রতি ৪ থেকে ৫ টাকা দামেও বিক্রি হচ্ছে না। তারই মধ্যে ইয়াসের তাণ্ডব   না হলেও, ঝড়-বৃষ্টিতে অধিকাংশ ঢেঁঁড়স গাছই জমিতে নুইয়ে  পড়ে  পচতে শুরু করেছে।  ঢেঁঁড়স খেয়ে পেট আঁঁইঢাঁই  করা গরু- ছাগলেরও অরুচি হওয়ায় তারাও আর ঢেঁঁড়স শুঁঁখে দেখছে না।   আগে এক বিঘা জমিতে ঢেঁঁড়স চাষ করে প্রায় ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা পাওয়া যেত।  এবার বীজ, সার, কীটনাশক, শ্রমিকের মজুরি  বাদ দিয়ে ঢেঁঁড়স চাষে লাভ তো দূরের কথা, লোকসানের মাত্রা কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে, সেটা ভেবেই এখন অস্থির এখানকার ঢেঁঁড়স চাষিরা।।     

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *