প্রশাসন

লকডাউনে মিড ডে মিলে ছোলা জোগাড় করতে হিমসিম স্কুল কর্তৃপক্ষ

খায়রুল আনাম (সম্পাদক – আয়না টেলি নিউজ,)


লকডাউন জনিত পরিস্থিতিতে দীর্ঘদিন ধরেই বন্ধ রয়েছে সরকারি ও বেসরকারি স্কুলগুলি।  আর যার  পরিপ্রেক্ষিতে সরকারি স্কুলগুলিতে  পড়ুয়াদের মিড-ডে মিলের রান্না  করা খাবার  দেওয়ার কর্মসূচীও বন্ধ রয়েছে। কিন্তু পড়ুয়াদের পুষ্টির বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে পড়ুয়াদের জন্য শুখনো খাবার দেওয়ার কর্মসূচী নেওয়া হয়। যাতে আগে চাল, আলু দেওয়া হলেও চলতি আগস্ট মাস থেকে যে বরাদ্দ করা হয়েছে তাতে, পড়ুয়া পিছু  ২ কেজি চাল, ১ কেজি আলু, একটি করে সাবান দেওয়ার সাথে সাথে ১ কেজি করে ছোলা দেওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বীরভূম জেলার সরকারি স্কুলগুলিও এই কর্মসূচীর আওতায় রয়েছে। এই ছোলা স্কুলগুলিকেই স্থানীয়ভাবে জোগাড় করে নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।  এবং এজন্য কেজি প্রতি ওই ছোলা ৫৫ টাকা থেকে ৬৫ টাকা কেজি দরে কেনার নির্দেশও দেওয়া হয়। কিন্তু কেজি প্রতি ছোলার দামে ১০ টাকা হিসাবে কেন ফারাক রাখা হয়েছে, তা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।  অনেকেই মনে করছেন যে, দামের এই ফারাকের ভিতরে যথেষ্ট  দুর্নীতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এবং কোথাও ৫৫ টাকা৷ কেজি দরের ছোলার দাম না দেখিয়ে তা ৬৫ টাকা কেজি দরে দেখিয়ে বিরাট অঙ্কের আর্থিক অনিয়ম ঘটাবার সম্ভাবনা থেকে যাচ্ছে। আর খুচরো বাজারে ৫৫ টাকা কেজি দরের কমেও ছোলা পাওয়া যায়।  জেলায় আগস্ট মাসের ৪ এবং ৫ তারিখের মধ্যে মিড-ডে মিলের অন্যান্য   সামগ্রীর সাথে এই ছোলা বণ্টনের নির্দেশও  দেওয়া হয়।       কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, জেলার বাজারে ছোলার যোগান তেমন একটা থাকে না। এরফলে  স্কুলগুলির মিড-ডে মিলের পরিবর্তে ছোলা দেওয়ার যে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তা বহুক্ষেত্রেই  জোগাড় করা সম্ভব হচ্ছে না। জেলায় প্রাথমিক স্তরে  প্রাথমিক  বিদ্যালয় এবং শিশুশিক্ষা কেন্দ্র  নিয়ে প্রায় ৩ লক্ষ  ৩০ হাজার পড়ুয়া রয়েছে। মাধ্যমিক স্তরে  জুনিয়ার হাইস্কুল, জুনিয়ার হাই মাদ্রাসা, সিনিয়র হাই মাদ্রাসা সব মিলিয়ে প্রায় ২ লক্ষ  পড়ুয়া রয়েছে। এক একটি স্কুলের যে সংখ্যক পড়ুয়া তাতে  পড়ুয়া পিছু এক কেজি হিসাবে ছোলা দিতে হলে কোনও কোনও স্কুলে  ৫ থেকে ৮ কুইন্টাইল, এমন কী ১৫ কুইন্টাল পর্যন্ত ছোলার প্রয়োজন। যা স্থানীয়ভাবে জোগাড় করাটাই মুস্কিল হয়ে উঠেছে। এদিকে ইতিমধ্যেই  পাইকর হাইস্কুল থেকে যে ছোলা পড়ুয়াদের দেওয়া হয়েছে তা ওজনে কম, তাতে ছোট ছোট পাথর ও বালি রয়েছে বলে অভিভাবকেরা স্থানীয় বিডিও-র কাছে লিখিত অভিযোগ করার সাথে সাথে সেই ছোলার নমুনাও জমা দিয়েছেন। করোনার প্রভাব এমনই যে,  শিক্ষার পরিবর্তে ছোলা নিয়েই এখন হিমশিম খেতে শুরু করেছেন বন্ধ স্কুলের শিক্ষকেরা ।।  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *