প্রশাসন

জামাইষষ্ঠীতে খুলছে তারামার মন্দির

খায়রুল আনাম সম্পাদক সাপ্তাহিক বীরভূমের কথা,

 সচিত্র পরিচয়পত্র যাচাইয়ের নির্দেশ পুলিশের
জামাইষষ্ঠীতে খুলছে তারাপীঠের তারা মায়ের মন্দির
         
একদিকে মানুষের জীবিকা হারানো, আর অন্যদিকে করোনার কারণ। এই দুয়ের মধ্যে পড়ে  করোনা সংক্রমণের ভয়ে বার বার যেমন লকডাউন ঘোষিত  হয়েছে তেমনি,  তারসঙ্গে সঙ্গতি রেখে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে রাজ্য তথা দেশের অন্যতম ধর্মীয়স্থান এবং পর্যটনকেন্দ্র বীরভূমের তারাপীঠের  তারা মায়ের মন্দিরের দরজা।   রাজ্যে করোনা সংক্রমণ বেড়ে চলায়, রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পরই  ১৫ মে থেকে ১৫ দিনের জন্য রাজ্যে লকডাউন ঘোষণা হওয়ার পরই,  তারাপীঠ মন্দিরেও ভক্তজন ও সাধারণের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।  পরে রাজ্য সরকার লকডাউনের মেয়াদ বাড়িয়ে ১৫ জুন পর্যন্ত করায়, তারাপীঠ মন্দির কমিটিও  ১৫ জুন পর্যন্ত মন্দিরের দরজা সাধারণের জন্য বন্ধ থাকার কথা জানিয়ে দেয়। কিন্তু এবার ঘটলো ব্যতিক্রম। রাজ্য সরকার লকডাউনের মেয়াদ  ৩০ জুন পর্যন্ত বাড়িয়ে দিলেও, তারাপীঠ মন্দির কমিটি জানিয়ে দিলো যে, বুধবার ১৬ জুন  জামাইষষ্ঠীর দিন থেকে  তারাপীঠ মন্দিরের দরজা দর্শনার্থীদের জন্য খুলে দেওয়া হচ্ছে।    মন্দিরে সাধারণের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও তারা মায়ের নিত্যপুজো, ভোগ আরতি যথারীতি হয়ে এসেছে। এবার মন্দির খোলার পরেও বেশকিছু নিষেধাজ্ঞা অবশ্য থেকেই যাচ্ছে। দর্শনার্থীদের মন্দিরের গর্ভগৃহে প্রবেশ করে, কেবলমাত্র মা তারাকে দর্শন করেই ফিরে আসতে হবে।  তারা মায়ের চরণ  ছোঁয়া, বিগ্রহ স্পর্শ  করা, বিগ্রহে মাল্যদান করা  এবং মন্দিরে মোবাইল ও ক্যামেরা নিয়ে প্রবেশের উপরে নিষেধাজ্ঞা জারি  করা হয়েছে।  রথের দিনে  তারা মাকে রথে চাপিয়ে তারাপীঠের রাস্তায় নামানো  হয়ে থাকে। কিন্তু এবার তা হবে কী না, সে ব্যাপারে এখনও কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।   তারাপীঠের  অর্থনীতির প্রায় পুরোটাই পর্যটন-নির্ভর। এবং তা দাঁড়িয়ে আছে তারাপীঠ মন্দিরকে  ভিত্তি করে। কিন্তু এখানকার মন্দিরের দরজা সাধারণের জন্য দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকার ফলে সেই অর্থনীতির কাঠামো প্রায় ভেঙে পড়েছে।  তারাপীঠ  মন্দিরের দরজা সাধারণের জন্য বন্ধ থাকায়  এখানকার অর্থনীতিও   স্তব্ধ  হয়ে গিয়েছে। এখানকার হোটেল, লজ থেকে শুরু করে ছোট-বড় সব ব্যবসাই বন্ধ হয়ে গিয়েছে। এবার মন্দিরের দরজা সকলের জন্য খোলার পরিপ্রেক্ষিতে তা কিছুটা হলেও চাঙ্গা হবে বলেই ধরে নেওয়া হয়েছে। তবে, হাওড়া ও শিয়ালদহ থেকে এক্সপ্রেস এবং প্যাসেঞ্জার   ট্রেন  চালু না হওয়া পর্যন্ত তারাপীঠে দর্শনার্থীদের ঢল নামবে না কোনওভাবেই।  এদিকে রামপুরহাট  এসডিপিও  সায়ন আহমেদ তারাপীঠের হোটেল, লজ মালিকদের সাথে বৈঠক করে জানিয়ে দিয়েছেন যে, যাঁরাই এসে হোটেল, লজে থাকবেন তাঁদের  সচিত্র পরিচয়পত্রের জেরক্স কপি, মোবাইল নম্বর  আবশ্যিকভাবে জমা রাখতে হবে। বিদেশি পর্যটক হলে ফর্ম-সি পূরণ করে ছবি-সহ তা জমা রাখতে হবে। হোটেল, লজে যাঁরা থাকবেন তাঁদের সঙ্গে কেউ দেখা করতে এলে  তাঁদেরও পরিচয়পত্রের জেরক্স কপি জমা রাখতে হবে।  হোটেল, লজে সিসিটিভি ক্যামেরাগুলি এমনভাবে লাগানো থাকতে হবে, যাতে সবার ছবিই স্পষ্টভাবে লক্ষ্য করা যায়। যে সব হোটেল, লজে সিসিটিভি ক্যামেরা নেই, তাঁদের মোবাইলে ছবি তুলে রাখতে হবে এবং প্রতি ২৪ ঘণ্টা অন্তর হোটেল- লজের রেজিস্টারের কপি থানায় জমা দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।।        

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *