হাইকোর্ট সংবাদ

ভোট পরবর্তী হিংসায় নির্যাতিতাদের আর্জি শুনবে সুপ্রিম কোর্ট

ভোট পরবর্তী হিংসায় নির্যাতিতাদের আর্জি শুনবে সুপ্রিম কোর্ট 

মোল্লা জসিমউদ্দিন টিপু,
ভোট পরবর্তী হিংসা নিয়ে একাধারে যেমন কলকাতা হাইকোর্টে একগুচ্ছ মামলা চলছে, ঠিক তেমনি সুপ্রিম কোর্টেও চলছে বেশকিছু মামলা।কলকাতা হাইকোর্ট যেমন গ্রামছাড়াদের ঘরে ফেরানোর জন্য তিন সদস্যের কমিটি গড়েছে।সেখানে ইমেল আইডি তৈরি করে সমস্ত অভিযোগ অনলাইনে গ্রহণ করবার নির্দেশিকা দিয়েছে । ঠিক তেমনি সুপ্রিম কোর্ট কিছু ক্ষেত্রে রাজ্যের রিপোর্ট তলব করেছে। তবে এবার সুপ্রিম কোর্টে সরাসরি স্বতঃস্ফূর্তভাবে স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম (সিট) গড়বার আবেদন জানানো হয়েছে কয়েকজন নির্যাতিতার আবেদনে।যেভাবে গুজরাতে দাঙ্গা নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট স্বতঃস্ফূর্তভাবে সিট গড়েছিল।তাই বাংলায় ভোট পরবর্তী হিংসায় চরমতম সন্ত্রাসের নজির সামনে তুলে এই আর্জি রেখেছেন ওই নির্যাতিতারা।সুপ্রিম কোর্ট নিহত দুই বিজেপি কর্মীর পরিবারের আর্জি শুনতে রাজি হয়েছে।ভোট পরবর্তী হিংসায় আক্রান্ত মহিলারা এবার সুপ্রিম কোর্টের দারস্থ। নাতির সামনে বৃদ্ধাকে ধর্ষণ করার ঘটনা সহ নানান ঘটনা এবার সুপ্রিম কোর্টের দরবারে আসছে শুনানির জন্য। অভিযোগ,  একুশে বিধানসভা নির্বাচনে ফলাফল প্রকাশের পর থেকে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস ধর্ষণ করা কে প্রধান অস্ত্র হিসাবে ব্যবহার করছে।যাতে বিরোধী দলের পরিবারগুলি সন্ত্রস্ত থাকতে বাধ্য হয়।ঘটনা ১, পূর্ব মেদিনীপুর জেলার খেজুড়িতে বিজেপি জিতেছে এবার বিধানসভার নির্বাচনে ।এক নির্যাতিতা মহিলা তার দাখিল করা পিটিশনে জানিয়েছেন – গত ৩  মে কয়েক শো টিএমসি সমর্থক তাদের বাড়ি ঘেরাও করে। বোমা মেরে উডিয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়। ৪ মে দেড়শোর বেশি শাসক দলের কর্মী সমর্থক তাদের বাড়িতে ঢুকে খাটে বেঁধে ধর্ষণ করে। পরদিন সকালে প্রতিবেশীরা জ্ঞানহীন মহিলা কে উদ্ধার করে জেলা হাসপাতালে ভর্তি করে থাকে। মহিলার জামাই থানায় অভিযোগ জানাতে গেলে পুলিশ তা নিতে অস্বীকার করে থাকে। বিরোধী দলের পরিবারগুলি কে চুপ করানোর জন্য মহিলাদের উপর অত্যাচার করা হচ্ছে।ওই ধর্ষিতার অভিযোগ – ধর্ষকদের পাঁচজনের নামধাম জানানো সত্ত্বেও পুলিশ ব্যবস্থা গ্রহণ করে নি।হাসপাতালে মেডিকেল পরীক্ষায় ধর্ষণের সততা মিলে।পুলিশ শুধুমাত্র একজনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে।এই বৃদ্ধার এহেন অভিযোগের পাশাপাশি সুপ্রিম কোর্টে দাখিল হয়েছে বছর ১৭ এর এক তপশিলি তরুণীর গণধর্ষণের অভিযোগ। গত ৯ মে এই তরুণী কে গণধর্ষণ করে জঙ্গলে ফেলে আসা হয় বলে অভিযোগ। স্থানীয় তৃনমূল নেতা বাহাদুর সেখ বাড়িতে হুমকি দিয়ে আসে পুলিশে অভিযোগ জানালে পরিণতি করুন হবে।বোমা মেরে বাড়ি উড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি প্রত্যেক কে খুন করা হবে।সেইসাথে এই নির্যাতিতার ছোট বোন কেও গণধর্ষণের হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ। বর্তমানে এই তরুণী কে হোমে রাখা হয়েছে । বাবা মায়ের সাথে হোম কর্তৃপক্ষ দেখা করতে দেয়না বলে নির্যাতিতার দাবি।এই দুটি ঘটনার পাশাপাশি ভোট পরবর্তী হিংসা নিয়ে আরেকটি ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে সুপ্রিম কোর্টের আঙিনায়। এক বিধবা তার অভিযোগে জানিয়েছেন – তার স্বামী বিজেপির পক্ষে প্রচার করার জন্য গত ১৪ মে শাসক দলের লোকেরা কুড়ুল করে স্বামী সহ ভাসুর কে মেরেছে। এমনকি অভিযোগকারীর সাথে গণধর্ষণের চেস্টা হয়েছিল সেদিন। এই পুরো ঘটনার নেতৃত্বে ছিলেন স্থানীয় এক জনপ্রতিনিধি। পুলিশের কাছে অভিযোগ জানাতে গেলে অভিযোগকারীকেই সন্ত্রস্ত করে দেয় পুলিশই! এই ধরনের নানান অভিযোগ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে হতে চলেছে শুনানি পর্ব।যা নিয়ে সর্বভারতীয় ক্ষেত্রে বাংলার ভোট পরবর্তী হিংসা নিয়ে তৈরি হয়েছে তুমুল আগ্রহ। 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *