রাজনীতি

মুকুলের প্রত্যাবর্তন – জ্যোতিপ্রকাশ মুখার্জি

মুকুলের প্রত্যাবর্তন,

জ্যোতি প্রকাশ মুখার্জ্জী

      ২০১৭ সালের ৩ রা নভেম্বরে দলত্যাগের পর ২০২১ সালের ১১ ই জুন প্রত্যাবর্তন। মাঝখানে কেটে গেছে প্রায় তিন বছর সাড়ে সাত মাস। তৃণমূলের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য মুকুল রায়ের দলত্যাগের মতই দলে ফেরাটাও রহস্যে ঘেরা।
      সারদা চিটফাণ্ডে যুক্ত থাকার অভিযোগে সিবিআই ২০১৫ সালে মুকুল রায়কে জেরা করে। তাপস পাল, মদন মিত্র, কুণাল ঘোষ সহ একাধিক তৃণমূল নেতাকে কার্যত জেরা করার সঙ্গে সঙ্গেই গ্রেপ্তার করলেও কোনো এক অজানা কারণে মুকুল রায়ের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম ঘটে। ২০১৬ সালে বিধানসভা ভোটের প্রাক্কালে তার বিরুদ্ধে নারদার অভিযোগ আসে। ভোটেও সেভাবে তাকে সক্রিয় হতে দেখা যায়নি। 'মিডিয়া মেড' চাণক্যকে বাদ দিয়েই তৃণমূল দ্বিতীয় বারের জন্য ক্ষমতা লাভ করে। এদিকে মুকুলকে নিয়ে নানা জল্পনা শুরু হয়। কখনো বলা হয় তিনি নতুন দল করছেন। কখনো বলা হয় তিনি বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন। এসব বিষয়ে তিনিও মাঝে মাঝে মিডিয়ার সামনে রহস্যময় কথাবার্তা বলেন। অবশেষে সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে ২০১৭ সালের ৩ রা নভেম্বর তিনি বিজেপিতে যোগ দেন।
         বিজেপিতে যোগ দেওয়ার কারণের ব্যাপারে কার্যত তিনি নীরব থাকেন। দুর্জনেরা বলতে থাকেন গ্রেপ্তারির হাত থেকে বাঁচার জন্য তিনি নাকি বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। সম্প্রতি নারদা কাণ্ডে তৃণমূলের দুই মন্ত্রী ও এক বিধায়ককে গ্রেপ্তার করা হলেও একই অভিযোগে অভিযুক্ত বিজেপির দুই নেতা মুকুল ও শুভেন্দু ছাড় পায়। ফলে আবার সেই পুরনো যুক্তি - গ্রেপ্তারির হাত থেকে বাঁচার জন্যই মুকুলের বিজেপিতে যোগ, জোরালো হয়। মুকুল রায় মুখ না খুললে সত্যিটা কেবল কল্পনা থেকে যাবে।
      মুকুল রায়ের হাত ধরে যারা বিজেপিতে যোগ দিয়েছিল তাদের একটা বড় অংশ ধীরে ধীরে তৃণমূলে ফেরার চেষ্টা করবে। সেই প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে। তবে তৃণমূলে যেভাবে প্রবীণ-নবীনের মেলবন্ধনের মাধ্যমে নবীনদের গুরুত্ব বাড়ছে  তাতে দলত্যাগীরা আগের মত গুরুত্ব পাবে বলে মনে হয়না। বলা যেতেই পারে বেশ কিছু রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব কার্যত অস্তাচলের পথে। মুকুলের অভিজ্ঞতার হাত ধরে তৃণমূল উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলোতে নিজেদের প্রাধান্য বাড়ানোর চেষ্টা করবে। প্রথম লক্ষ্য ত্রিপুরা।
     গত চল্লিশ বছর তো বটেই কেন্দ্রে ক্ষমতায় থাকা সত্ত্বেও গত সাত বছরে বিজেপি বাংলায় নিজস্ব কোনো সংগঠন গড়ে তুলতে পারেনি। বিভিন্ন এজেন্সির ভয় দেখিয়ে কেবল অন্য দল বিশেষ করে তৃণমূল থেকে জনভিত্তি হীন  ক্ষমতালোভী নেতা টেনেছে। এই দলত্যাগীদের নিয়ে বিধানসভা ভোটে বিজেপি ক্ষমতা দখলের স্বপ্ন দেখেছিল। এরা আবার তৃণমূলে ফিরে যাবে। নিজস্ব কোনো টিম গড়ে না ওঠার জন্য বিজেপির দুর্বল হবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে দিলীপ, রাহুল, সায়ন্তনদের নিয়ে আসন্ন পৌরভোটে বিজেপি আদৌ সুবিধা করতে পারবেনা। স্বাভাবিক ভাবে বাংলায় বিজেপি চরম অস্তিত্ব সংকটে ভুগবে। 
     বিধানসভায় বাম-কংগ্রেস শূন্য। বিজেপির ঘরও খালি হওয়ার পথে। সুতরাং মুকুলের প্রত্যাবর্তনের ফল হিসাবে এটুকু বলা যেতেই পারে বেশ কিছু সময়ের জন্য বাংলায় বিশাল রাজনৈতিক শূন্যতা সৃষ্টি হতে চলেছে। তবে তৃণমূল যদি সচেতন নাহয় তাহলে তৃণমূলের গোষ্ঠী কোন্দল চরম পর্যায়ে পৌঁছে যাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *