হাইকোর্ট সংবাদ

কয়লা – গরু পাচার মামলায় হতে পারে ‘মিশন বিনয় টিম’

কয়লা – গরু পাচার মামলায় হতে পারে  ‘মিশন বিনয় টিম’?

মোল্লা জসিমউদ্দিন টিপু,


ক্যারিবিয়ান দ্বীপ ডোমিনিয়ায় ‘মিশন চোকসি টিম’ আপাতত ব্যর্থ হলেও কয়লা ও গরু পাচার মামলায় সিবিআইয়ের তরফে হতে পারে ‘মিশন বিনয় টিম’।ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় সরকারের বিদেশ মন্ত্রণালয়ের দারস্থ  হয়েছে সিবিআই কর্তৃপক্ষ। কয়লা ও গরু পাচার মামলায় অভিযুক্ত বিনয় মিশ্রের প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপ ভানুয়াতুতে বর্তমান ঠিকানা নিশ্চিত করাতে এবং প্রত্যাবর্তন নিয়ে ওইদেশের অবস্থান জানতে বিদেশ মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতা চেয়েছে সিবিআই। সবুজ সংকেত পেলে তারা দ্রুত প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপ ভানুয়াতুতে বিনয় মিশ্রর সন্ধানে যেতে পারে সিবিআইয়ের স্পেশাল দল।দিল্লির সাথে পোর্ট ভিলার কূটনৈতিক সম্পর্ক সহ বন্দি প্রত্যাবর্তন চুক্তি কিরুপ রয়েছে তা যথাযথ জেনে তবেই যেতে পারে সিবিআইয়ের স্পেশাল দল টি।ইতিমধ্যেই কলকাতা হাইকোর্টের দারস্থ হয়েছেন এই বিনয় মিশ্র। যে আইনী জটিলতার মধ্যে  পড়ে ক্যারিবিয়ান দ্বীপ ডোমিনিয়া থেকে শুন্য হাতে ফিরেছে  ‘মিশন চোকসি টিম’।ঠিক সেইরকম আইনী জটিলতা তৈরি হচ্ছে বহু চর্চিত গরু এবং কয়লা পাচার মামলায় অভিযুক্ত বিনয় মিশ্র কে ঘিরে।কেননা এই হাইপ্রোফাইল অভিযুক্ত ভারতের মাটিতে নেই।রয়েছেন প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপ ভানুয়াতুতে।সেখানে এই অভিযুক্ত নাকি সেদেশের নাগরিকত্ব নিয়ে ফেলেছেন। গত সোমবার কলকাতা হাইকোর্টে গরু এবং কয়লা পাচার মামলায় অভিযুক্ত বিনয় মিশ্রের পক্ষে দুই আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভি এবং সির্দ্ধাথ লুথরা এক পিটিশন দাখিল করেছেন।সেখানে বিনয় মিশ্র কে বিদেশ থেকে ভার্চুয়াল শুনানিতে অংশগ্রহণ করবার অনুমতি এবং আদালতের দেওয়া অন্তবর্তী জামিনের মেয়াদ বৃদ্ধির আবেদন রয়েছে। মারণ ভাইরাস করোনা আবহে এই দেশে আসা সম্ভব নয় তাই বিদেশের অর্থাৎ প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপ ভানুয়াতুতে থেকে ভার্চুয়াল শুনানিতে অংশগ্রহণ করবার অনুমতি চাওয়া হয়েছে। কেননা ভার্চুয়াল শুনানির ক্ষেত্রে আদালতের অনুমতি আবশ্যিক। ওইদিন সিবিআইয়ের তরফে আইনজীবী এই পিটিশন টি শুনানির জন্য দু সপ্তাহ পিছিয়ে দেওয়ার অনুরোধ জানালে, আদালত তা খারিজ করে দেয়। পাশাপাশি সিবিআইয়ের আইনজীবী কে ভৎসনা পর্যন্ত করে থাকে। এদিন কয়লা ও গরু পাচার মামলায় অভিযুক্ত বিনয় মিশ্রের আইনজীবিরা জানিয়েছেন – ‘ ভারত সরকারের কাছে নাগরিকত্ব বাতিল করার আবেদন বিনয় মিশ্র বারবার রাখলেও কেন্দ্রীয় সরকার তাতে সায় দেয়নি’।সম্প্রতি দুবাই থেকে ১ লক্ষ ৩০ হাজার ডলার খরচ  করে প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপ ভানুয়াতুতে নাগরিকত্ব ক্রয় করেছেন বিনয় মিশ্র। কয়লা ও গরু পাচার মামলায় সিবিআইয়ের এফআইআর দাখিলে প্রথম দিকে নাম ছিল না বিনয় মিশ্রের। তবে সিবিআইয়ের দাবি – কয়লা ও গরু পাচার মামলায় ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে অসংখ্য যোগসূত্র মিলেছে বিনয় মিশ্রের বিরুদ্ধে। আন্তর্জাতিক মহলে রেড কর্নার নোটিশ পর্যন্ত ইস্যু করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই। তবে এই দুটি মামলা রুজু হওয়ার পর একাধারে যেমন তদন্তকারী ইডি ও সিবিআইয়ের পক্ষে অভিযুক্ত বিনয় মিশ্রের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়।ঠিক তেমনি বিনয় মিশ্রের ভাই বিকাশ মিশ্র গ্রেপ্তারও হয়।তবে আইনজীবী মারফত এই মামলা কলকাতা হাইকোর্ট থেকে সুপ্রিম কোর্ট অবধি নিয়ে যায় অভিযুক্ত বিনয় মিশ্র। সুপ্রিম কোর্ট শর্তসাপেক্ষে অন্তবর্তী জামিন মঞ্জুর করে থাকে। সেই অন্তবর্তী জামিনের মেয়াদ বৃদ্ধি এবং বিদেশ থেকে ভার্চুয়াল শুনানিতে অংশগ্রহণ করবার অনুমতি চাওয়া নিয়ে গত সোমবার কলকাতা  হাইকোর্টের দারস্থ হলেন বিনয় মিশ্র। এরেই মধ্যে সিবিআই বিদেশ মন্ত্রণালয়ের দারস্থ হলো। অভিযুক্ত বিনয় মিশ্রের ঠিকানার যাচাই করে নিতে পাশাপাশি দুইদেশের বন্দী প্রত্যাবর্তন চুক্তির খুঁটিনাটি জানতে।প্রয়োজনে বিদেশের মাটিতে যেতে পারে সিবিআইয়ের ‘মিশন বিনয় টিম’।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *