রাজনীতি

বিধানসভা ভোটে ‘মর্যাদা’ না পাওয়াতেই কি ফের তৃণমূলে মুকুল রায়?

বিধানসভার ভোটে ‘মর্যাদা’ না পাওয়াতেই কি ফের তৃণমূলে মুকুল?

মোল্লা জসিমউদ্দিন টিপু,


গত লোকসভা ভোটে প্রার্থী নির্বাচন থেকে ভোট পরিচালনাতে একপ্রকার ‘ফ্রি হ্যান্ড’ পেয়েছিলেন মুকুল রায়। তার ফলও পেয়েছিল বঙ্গ বিজেপি।দুই থেকে একলাফে উনিশ টি আসন।আর এখান থেকেই বঙ্গ বিজয়ের স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছিলেন মোদী – অমিত শাহরা।একুশে বিধানসভার ভোটের ফল প্রকাশের আগের দিন পর্যন্ত অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসী ছিল বিজেপি।ফলপ্রকাশের দিন দেখা গেল বিজেপি একশোর দোরগোড়াতেও পৌঁছাতে পারলো না।তখন থেকেই জল্পনা ছিল মুকুল রায় এবার দলবদল করতে চলেছেন। এই দলবদলের শিলমোহর পড়লো শুক্রবার দুপুরে। তৃনমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সহ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়দের উত্তরীয় পড়ে ঘরের ছেলে ঘরে ফিরলো।হ্যাঁ মুকুল রায় তাঁর পুত্র শুভ্রাংশু রায় কে নিয়ে তৃণমূল ভবনে পুরাতন দলে প্রত্যাবর্তন করলেন। কি কারণ?  মুকুল রায়ের এক ঘনিষ্ঠ নেতা জানাচ্ছেন – ” গত বিধানসভা নির্বাচনে পরিকল্পিতভাবে দাদা কে গুরত্বহীন করা হয়।বাংলাজুড়ে  প্রার্থী নির্বাচন তো দূর অস্ত কুড়ির নিচে অনুগামীরা টিকিট পেয়েছিলেন। পাশাপাশি মহানগরীয় বৃত্ত থেকে সরিয়ে নদীয়ার কৃষ্ণনগরে ভোটে দাঁড় করিয়ে একটি আসনে ব্যস্ত রাখা হয়েছিল।মুকুল রায়ের নেতা একজন সাধারণ বিধায়ক হওয়ার জন্য বিজেপিতে যোগদান করেননি। তারউপর এক আলঙ্কারিক পদ যার সাংগঠনিক গুরত্ব নেই,তা দেওয়া হয়েছিল “। যদিও শুক্রবার দলবদলের পর মুকুল রায় জানিয়েছেন – ” বিজেপি বড় দল, কিন্তু আমার সেখানে ভালো লাগছেনা। এর থেকে বড় কারণ আর কি হতে পারে? ” অপরদিকে মুকুল রায় পুত্র শুভ্রাংশু রায় জানিয়েছেন – ‘ এই যে বাবার কোভিড হয়েছিল, কেউ বিজেপির হয়ে খোঁজ খবর নিতে আসেনি’। রাজনীতির মঞ্চে সবই সম্ভব। একুশে বিধানসভা নির্বাচনের ভোট প্রচারে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্য এবং ভোটের ফলাফল প্রকাশ পরবর্তীতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সহ সৌগত রায়ের মত গুরত্বপূর্ণ নেতাদের ইংগিত বিজেপির সর্বভারতীয় সহ সভাপতি তথা কৃষ্ণনগরের বিধায়ক মুকুল রায়ের রাজনৈতিক অবস্থান ঘিরে নানান প্রশ্নচিহ্ন দেখা গিয়েছিল ।তার সমস্ত জল্পনার জল পড়লো আজ সপুত্র মুকুল রায়ের তৃণমূলে যোগদান করাতে।একাধারে যেমন করোনা আক্রান্ত মুকুল রায়ের স্ত্রী কে হাসপাতালে দেখতে গিয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ঠিক তেমনি আবার মুকুল পুত্র শুভ্রাংশু রায় সোশ্যাল মিডিয়ায় বিজেপি দলের সমালোচনা করেছেন।এরপর রাজ্য বিজেপির গুরত্বপূর্ণ বৈঠকে গড়হাজির মুকুল কে ঘিরে নানান জল্পনা ছিল বাংলার রাজনীতিতে। সর্বপরি বাংলার গেরুয়া শিবিরে যেভাবে শুভেন্দু অধিকারী প্রভাবশালী নেতা হিসাবে প্রকাশ পাচ্ছেন। তাতে মুকুল রায় কি করবেন, তা নিয়ে দোলাচালে ছিল বিজেপি। রাজ্য বিধানসভায় বিধায়ক হিসাবে শপথ গ্রহণের সময় যেভাবে ভিআইপি গেট দিয়ে ঢুকে বিরোধী দলের বিধায়ক মুকুল রায় বিধানসভার সচিবালয়ের অফিসারদের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ কিংবা পুরাতন দলের সহকর্মী সুব্র‍্ত বক্সীর সাথে হাসিমুখে কুশল বিনিময় ঘটিয়েছিলেন। তাতেও মুকুল রায় কে ঘিরে বিজেপির অন্দরমহলে দেখা গিয়েছিল ফাটল। একুশে বিধানসভা ভোটে প্রচারে নন্দীগ্রামে এসে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন – ” মুকুল কিন্তু শুভেন্দুর মত অত খারাপ নয়! বেচারা কে কৃষ্ণনগরে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। ব্যারাকপুর – নৈহাটি ওর নিজের এলাকা। সেখানেই দিতে পারতো “। মমতার এহেন মন্তব্য ঘিরে বিজেপির অন্দরমহলে অবিশ্বাসের বাতাবরণ গড়ার অভিযোগ উঠলেও ফলপ্রকাশের পরে যেভাবে বিধানসভা ভবনে ভিআইপি গেটে ঢুকে তৃণমূল নেতাদের সাথে কুশল বিনিময় ঘটিয়েছিলেন মুকুল। তাতে মুকুলের সাথে গোপন যোগাযোগ আগে থেকেই ছিল তৃণমূলের, এমনও দাবি বিভিন্ন সুত্রে।।সস্ত্রীক করোনা আক্রান্ত হওয়ার পর হাসপাতালে মুকুল রায়ের স্ত্রী কে দেখতে গিয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। পরবর্তীতে  সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক হিসাবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এক সাংবাদিক সম্মেলনে জানিয়েছেন – ” বিজেপির কয়েকজন সাংসদ সহ জেতা বিধায়ক তৃণমূলে ফেরার জন্য যোগাযোগ রাখছেন “। ঠিক এইরকম পরিস্থিতিতে মুকুল পুত্র শুভ্রাংশু রায় বেসুরো হয়েছিলেন সোশ্যাল মিডিয়ায়। আবার রাজ্য বিজেপির গুরত্বপূর্ণ বৈঠকে গড়হাজির ছিলেন মুকুল রায়। তার উপর নরমপন্থী হিসাবে মুকুল রায় বরাবরই তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কে নিয়ে কোন বিতর্কিত মন্তব্য করেন নি।এহেন অবস্থানকারী মুকুল রায় কে নিয়ে তৃণমূলের দমদমের সাংসদ সৌগত রায় মুকুলের প্রত্যাবর্তন এর সম্ভাবনা নিয়ে ইংগিত দিয়েছিলেন। তাতে রাজ্য রাজনীতিতে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পুনরায় চলে এসেছিলেন  মুকুল রায়। শুক্রবার দুপুরে মুকুল রায়ের বিজেপি থেকে পুনরায় তৃণমূলে আসাতে সমস্ত জল্পনা মুছে গেল।এবার বিজেপির নির্বাচিত সাংসদ এবং বিধায়কদের কতজন দলবদলের খাতায় নাম লেখাবেন, তা নিয়ে শুরু হলো নুতন ‘খেলা’…….

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *