প্রশাসন

খেজুড়ির পাশে শক্তিপাড়া বিবেকানন্দ পাঠাগার

অর্ণব রায়,

চলে গেছে ইয়াস কিন্তু রেখে গেছে তার ধ্বংসলীলার চিহ্ন। পূর্ব মেদিনীপুরের বিস্তীর্ণ এলাকায় এখনো মানুষ খুঁজে চলেছে বেঁচে থাকার রসদ। এমনি একটি গ্রাম বিরবাঁধ। খেজুরি থানার অন্তর্গত এই এলাকার মানুষের খাদ্য, বস্ত্র, জলের জোগান পাওয়াই দূর্বিসহ হয়ে উঠেছে। এমন অবস্থায় এগিয়ে এসেছে বেশ কিছু স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। বর্ধমানের শক্তিপাড়া বিবেকানন্দ পাঠাগার ও ক্রীড়া সমিতি থেকে ত্রাণ বোঝাই এক লরি নিয়ে খেজূরির উদ্দেশ্যে পাড়ি দেয় সদস্যরা। পুলিশ প্রশাসন ও স্থানীয় দুই যুবক এর সহযোগীতায় দেড়শ জন দূঃস্থ মানুষের হাতে ত্রাণ সামগ্রী তুলে দেন তারা। চাল, ডাল, নুন, তেল, চিড়ে, বিস্কুট, জল প্রভৃতি ছাড়াও এদিন ত্রাণ সামগ্রীর মধ্যে ছিল বিভিন্ন ধরনের জামাকাপড়। সমিতির এক সদস্যের কথায় মানুষ গুলো এতোটাই বিপর্যস্ত যে না আছে তাদের বাড়িঘর, না আছে খাদ্য, না পর্যাপ্ত পোশাক আশাক। তাই ব্যাগ ভর্তি রেশন পৌঁছে দিতে পেরে গর্বিত তারা। গ্রামের বাসিন্দারা মূলত কৃষিকাজ ও মৎস্য চাষ এর ওপর নির্ভর। কিন্তু দুটি ক্ষেত্রেই আজ নেমে এসেছে অনিশ্চয়তা। জীবন জীবিকার এই সংকটময় মুহূর্তে হতাশ মানুষগুলো এই ত্রাণ পেয়ে যে বেশ কিছুটা উপকৃত তা বোঝা যাচ্ছিল তাদের দেখে। পরিস্থিতি এতোটাই বিপর্যস্ত যে ত্রাণ নিতে আসা এক বৃদ্ধ জানান “গত তিনদিন পরে আজ নাতি নাতনি গুলোর মুখে দুমুঠো ভাত তুলে দিতে পারাবো”। শক্তিপাড়া বিবেকানন্দ পাঠাগার ও ক্রীড়া সমিতির সভাপতি শ্রী প্রলয় দাস জানান যে, প্রায় আড়াইশো কিলোমিটার রাস্তা পাড়ি দিয়ে ইয়াস ঝড়ের ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের কাছে ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছাতে পেরে পরিতৃপ্তি সমিতির সকল সদস্যরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *