প্রশাসন

ইয়াস মোকাবিলায় বীরভূম কতটা প্রস্তুত ছিল?

খায়রুল আনাম, ২৭ মে,

 পরিস্থিতি  মোকাবিলায় জেলায় এলো কেন্দ্রীয় বাহিনী
   
বর্তমান ইয়াস পরিস্থিতিতে এখনও পর্যন্ত জেলা বীরভূমে তেমন কোনও বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটেনি। তবে,  প্রতিবেশী রাজ্য ঝাড়খণ্ডে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাত  এবং সেখান থেকে প্রয়োজনে যদি ঝাড়খণ্ড সরকার  বীরভূমে ঢুকে  পড়া অজয়, ময়ূরাক্ষী,  কোপাই,  ব্রাহ্মণী, দ্বারকা, বাঁশলৈ, চন্দ্রভাগা  প্রভৃতি নদীতে জল ছেড়ে দেয় তাহলে,  বীরভূমের পরিস্থিতি  অনিবার্যভাবেই ভয়াবহ হবে। আর সেই পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য  রাজ্য থেকে  এক কেম্পানি  কেন্দ্রীয় বাহিনী পৌঁছে গেল জেলায়।  ঝাড়খণ্ড সরকারকে অবশ্য ইতিমধ্যেই জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে,  বীরভূম জেলা প্রশাসন অথবা  পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে  আগাম না জানিয়ে যেন  জল ছাড়া না হয়। এদিকে  ওড়িশার বালেশ্বরে ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে সেই জল ঝাড়খণ্ডে এসে ঢুকবে এবং তখন অনিবার্যভাবেই ঝাড়খণ্ড সেই জল ছাড়লে তা বীরভূমের ভিতর দিয়ে প্রবাহিত হবে প্রবল গতিতে।  সুবর্ণরেখা নদীতে ইতিমধ্যেই জলস্ফীতি দেখা দেওয়ায় ঝাড়খণ্ড সরকার এখনও এ ব্যাপারে বীরভূম জেলা প্রশাসনকে কিছুই জানায়নি।  ওইসব জায়গা থেকে জল ছাড়লে তখন জেলার ভিতরের নদীগুলিতে স্বাভাবিকভাবেই জলস্ফীতি ঘটবে। এমনটা হলে পরিস্থিতি  কী হতে পারে,  সেটাই এখন ভাবাচ্ছে  বীরভূম জেলা প্রশাসনকে।       জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে যে ২৮১টি রেসকিউ সেণ্টার তৈরী করা হয়েছে, সেখানে ইতিমধ্যেই ৫০ হাজার মানুষকে নিয়ে এসে রাখা হয়েছে। জেলা পরিষদের পক্ষ থেকেও ইতিমধ্যেই  জেলার ১৯টি ব্লকে শুকনো খাবার, ত্রাণের জন্য  শাড়ি, ধূতি ও জামা-কাপড় পাঠিয়ে   দেওয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ বিপর্যয় মোকাবিলার জন্য ১২৫টি দল তৈরী রাখা হয়েছে। জেলা সদর শহর সিউড়ির অন্যতম প্রবেশ পথ  হাটজনবাজার এলাকার গ্রহরাজ মন্দিরের সামনের একটি প্রাচীন পাকুড় গাছ ভেঙে পড়লে যান চলাচলে চরম সমস্যা দেখা  দেয়।  স্থানীয় একটি বাড়ির অংশবিশেষ ভেঙেছে এরফলে।  প্রাচীন এই গাছটির তিনটি অংশ তিন দিকে ভেঙে পড়ায় সমস্যা বেশি করে দেখা দেয়। এলাকার বিদ্যুৎবাহী তার ছিঁড়ে যাওয়ায় গোটা এলাকা বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।  পরে সেই গাছ সরিয়ে রাস্তা অবরোধ মুক্ত করা হয়েছে। ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে বিদ্যুৎ পরিষেবাও।  অপরদিকে  অন্যত্র যাতে কোনও সমস্যা না হয় সে জন্য পূর্ত ও সেচ দফতরকে নিয়ে  ৫০ টি দল তৈরী করা হয়েছে পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য।    প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সময় পরিশ্রুত পানীয় জলের অভাবে অনেক সময় দূষিত জল পান করার ফলে মানুষকে নানা ধরনের অসুখে ভুগতে হয়। এই সময় সেই ধরনের কোনও পরিস্থিতি যাতে না হয় সে জন্য জনস্বাস্থ্য কারিগরি দফতরের পক্ষে ৬০ হাজার প্যাকেট জলের ব্যবস্থা রাখা ছাড়াও আরও  ৫০ হাজার প্যাকেট জলের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।     সেই সাথে এখনও পর্যন্ত জেলায় বড় ধরনের কোনও বিপর্যয় না ঘটার পরিপ্রেক্ষিতে    রেসকিউ সেণ্টারগুলিতে যাঁরা রয়েছেন,  তাঁরা এলাকা এবং তাঁদের বাসস্থানের পরিস্থিতি নিরাপদ বলে মনে  করলে, তাঁরা  নিজ নিজ বাড়িতে ফিরতে চাইলে, সেই অনুমতি দেওয়ার বিষয়েও জেলা প্রশাসন ভাবনা-চিন্তা করছে বলে জানা গিয়েছে।।           

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *