প্রশাসন

প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রতিরোধে কাঁচা বাড়ি কত বীরভূমে?

খায়রুল আনাম, ২৬ মে,

 ইয়াসের আতঙ্কে কাঁচা বাড়ির সংখ্যায় উদ্বিগ্ন জেলা প্রশাসন
     
প্রাকৃতিক বিপর্যয়  ইয়াসের প্রভাব জেলা বীরভূমে বুধবার  ২৬ মে পর্যন্ত তেমন একটা প্রভাব ফেলতে পারেনি। তবে, আগামী দু’ দিন পরিস্থিতি কোনদিকে যেতে পারে, তা নিয়ে  সর্বদাই উদ্বিগ্ন রয়েছে জেলা প্রশাসন। যে কোনও পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য জেলা প্রশাসন সব দিক থেকেই প্রস্তুত রয়েছে। এখনও জেলার সব প্রান্তেই প্রশাসনিকভাবে ইয়াস সম্পর্কে সতর্ক থাকার জন্য প্রচার চালানো হচ্ছে।        জেলা বীরভূমেও  ইয়াসের  প্রভাবে ভারী বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ওড়িশার বালেশ্বর পার হয়ে ঝাড়খণ্ডের দিকে  চলে যাওয়ার পথে এ জেলাতেও ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। কোপাই, ব্রাহ্মণী, অজয়,  দ্বারকা, বাঁশলৈ, ময়ূরাক্ষী, চন্দ্রভাগা প্রভৃতি নদীগুলি পার্শ্ববর্তী ঝাড়খণ্ড রাজ্য থেকে বেরিয়ে বীরভূমের উপর দিয়ে  প্রবাহিত হয়েছে।  ঝাড়খণ্ডে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকায়, সেই জল ঢাল বেয়ে বীরভূমের উপর দিয়েই  নদী পথে বয়ে যাবে। ঝাড়খণ্ডে বেশি বৃষ্টিপাত হলে সেখানকার জলাধারগুলি থেকে নদী পথে জল ছাড়া শুরু হলে, জেলার বিভিন্ন অংশ প্লাবিত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরী হতে পারে। যাতে অকাল বন্যাও  দেখা দিতে পারে। তাই বীরভূম জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঝাড়খণ্ড সরকারকে সতর্কবার্তা দিয়ে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, বীরভূম জেলা প্রশাসন বা পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে আগেভাগে না জানিয়ে তাদের দিক থেকে যেন জল ছাড়া না হয়।   নদীতে প্রবল জলোচ্ছ্বাস হলে  নলহাটির ব্রাহ্মণী, মুরারইয়ের  বাঁশলৈ নদী এলাকায় যে সব মাটির বাড়ি রয়েছে, সেখানকার বাসিন্দাদের একটা বড় অংশকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সরিয়ে নিয়ে এসে নিরাপদ জায়গায় আশ্রয়  দেওয়া হয়েছে এবং তাঁদের খাদ্যেরও ব্যবস্থা  করা হয়েছে।  এই কাঁচা বাড়িগুলিই বেশি আতঙ্ক বাড়াচ্ছে প্রশাসনের। ব্রাহ্মণী নদীর পার্শ্ববর্তী এলাকায়  প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিশেষ নজরদারিও চালানো হচ্ছে বলে নলহাটি-১ বিডিও মধুমিতা ঘোষ জানিয়েছেন।     প্রাকৃতিক এই বিপর্যয়কে মাথায় রেখে কাঁচা এবং দুর্বল বাড়িগুলি চিহ্নিত করে, সেইসব বাড়ির বাসিন্দাদের  সরিয়ে রেসকিউ  সেণ্টারে  নিয়ে যাওয়ার কাজও চলছে। জেলাশাসক বিধানচন্দ্র রায় জানিয়েছেন–অজয়, হিংলো, ময়ূরাক্ষী, ব্রাহ্মণী নদী ঘেঁষা এলাকার  ২০১৫৮ জন মানুষকে  ইতিমধ্যেই সরানো হয়ে গিয়েছে।  প্রায় ৪২ হাজার মানুষকে সরাবার লক্ষ্যমাত্রা রাখা হয়েছে।  এইসব মানুষদের নিরাপদ আশ্রয়ে রাখার জন্য  ২৮১টি রেসকিউ সেণ্টার তৈরী করা হয়েছে। যে হেতু করোনাবিধি মেনে এঁঁদের  শারীরিক দূরত্ববিধি বজায় রেখে রাখার ব্যবস্থা করা হচ্ছে তাই,  এই রেসকিউ সেণ্টারের সংখ্যা বাড়িয়ে ৩০০ বা তারও বেশি করা হতে পারে। সেইসাথে ম্যাসাঞ্জোর,  তিলপাড়া, বৈধরা-সহ অন্যান্য জলাধারগুলির জলের পরিমাপের দিকেও  সর্বদাই নজর রাখা হচ্ছে ।। 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *