প্রশাসন

শান্তিনিকেতনে নীরবে গেল ভাস্কর্য শিল্পী রামকিঙ্করের জন্মদিন

খায়রুল আনাম

 শান্তিনিকেতনে নীরবেই কেটে গেল আত্মনিমগ্ন শিল্পী রামকিঙ্করের জন্মদিন 
       
তিনি কখনও দেখেননি পিছন ফিরে। এক কাজ পাগল আত্মভোলা ও আত্মনিমগ্ন শিল্পী রামকিঙ্কর বেইজ তাঁর জীবন জোড়া শিল্পকৃতি সম্পর্কে তাই এই প্রতিবেদককে একদিন বলতে পেরেছিলেন- কী যে করি, সে কী আমি নিজেই জানি। স্বপ্নে যা ধরা দেয়, রঙ-তুলি আর হাতুড়ি- ছেনিতে তাকেই ফুটিয়ে তুলি।   প্রথাগত শিল্পের ধার ধারেননি কখনও।  আত্মমগ্ন ভাবনায় তিনি যখন যা দেখেছেন, মনের রঙ-তুলিতে তাই-ই ধরে রেখেছেন  তাঁর শিল্প ভাবনায়। তাঁর শিল্পকর্ম দেখে বিরক্ত হয়ে শান্তিনিকেতনের অনেকেই  একদিন স্বয়ং গুরুদেব রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাছে নালিশ করে বলেছেন-রামকিঙ্কর শিল্পের নামে শান্তিনিকেতনের পরিবেশই নষ্ট করে দিচ্ছে। আর ভবিষ্যৎ দ্রষ্টা রবীন্দ্রনাথ  গিয়ে সেইসব শিল্পকর্ম  চাক্ষুষ করে এসে উত্তরায়ণে  রামকিঙ্করকে ডেকে বলেছেন–তুই থামবি নে, তোর ভাবনা আর শিল্প দিয়ে গোটা শান্তিনিকেতনকে ভরিয়ে দে।        গুরুদেবের সে কথা মরমে গিয়ে জাগিয়ে  দিয়েছিলো রামকিঙ্করকে। শান্তিনিকেতন জুড়ে তাই আজও ছড়িয়ে রয়েছে তাঁর শিল্পকর্ম।  সারা বিশ্বের মানুষকে তাজ্জব করে দিয়ে শুধুমাত্র কাঁকড়, বালি আর লোহার শিক দিয়ে তৈরী করে গিয়েছেন সাঁওতাল পরিবার, কলের ডাক, ধান ঝাড়াই, মহাত্মার ডাণ্ডি অভিযান, গৌতম বুদ্ধ, সুজাতা-র মতো কালজয়ী চলমান শিল্পকর্মগুলি। আধুনিক ভারতীয় ভাস্কর্যকলার অন্যতম অগ্রপথিক রামকিঙ্কর বেইজ ১৯০৬ সালের ২৫ মে জন্মেছিলেন বাঁকুড়ার এক অখ্যাত পরিবারে। তারপর নানা ঘাত- প্রতিঘাতের মধ্যে দিয়ে তাঁর বেড়ে ওঠার সময় কালেই তিনি শান্তিনিকেতনের কলাভবনে এসে পেয়েছেন রবীন্দ্রনাথ, নন্দলাল বসু, বিনোদবিহারী মুখোপাধ্যায়ের মতো বিশ্ববরেণ্য শিল্পীদের সান্নিধ্য।  তিনিই প্রথম ভারতীয় শিল্পী যিনি  আধুনিক পাশ্চাত্য শিল্প শৈলীর সঙ্গে নিজের ভাস্কর্যের প্রয়োগ ঘটিয়ে  সারা বিশ্বে   অনন্য নজির সৃষ্টি করে গিয়েছেন। তাই তাঁকে ভারতীয় ভাস্কর্য শিল্পে আধুনিকতার জনক ও অন্যতম শ্রেষ্ট শিল্পী মনে করা হয়। ১৯৮০  সালের ২ আগস্ট কলকাতার  এসএসকেএম হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই শিল্পী।  ২৫ মে তাঁর জন্মদিনে শান্তিনিকেতনে এই করোনাকালে ছিলো না কোনও অনুষ্ঠান। শুধুমাত্র তাঁর সান্নিধ্য ধন্য আর গুণমুগ্ধরা আন্তরিকতার সঙ্গে শ্রদ্ধা নিবেদন করলেন এই মহান শিল্পীর প্রতি।। 
 ছবি- রামকিঙ্কর ও তাঁর শিল্পকর্ম।         

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *