রাজনীতি

ওরা কোথায় – জ্যোতিপ্রকাশ মুখার্জি

ওরা কোথায়?,


জ্যোতি প্রকাশ মুখার্জ্জী

       মনে পড়ে বামফ্রন্টের আমলে শাসনের শাসনকর্তা মজিদ মাস্টারের নাম? অথবা 'দলের সম্পদ' অবিভক্ত মেদনীপুরের তপন-সুকুর জুটির কথা? নিশ্চয়ই ভুলে যাননি জঙ্গল মহলের অনুজ পাণ্ডে-ডালিম পাণ্ডের কথা? অথবা মঙ্গলকোটের বেতাজ বাদশাহ ডাবলু আনসারির নাম শুনলে এখনো হয়তো ক্ষণিকের জন্য বুক কেঁপে ওঠে এলাকার মানুষের অথবা অত্যাচারিত পরিবারগুলোর সদস্যদের?
   উত্তর থেকে দক্ষিণ, পূর্ব থেকে পশ্চিম বামফ্রন্টের দীর্ঘ শাসনে প্রায় প্রতিটি জেলার প্রতিটি ব্লকে এরকম অসংখ্য মজিদ মাস্টার, তপন-সুকুর, অনুজ-ডালিম বা ডাবলু আনসারিরা ছিল। মূলত এরাই ছিল এলাকার শেষ কথা। এদের দাপটে এলাকায় নাকি বাঘে-গরুতে এক ঘাটে জল খেত। এলাকার রাজনীতির গতি প্রকৃতি এদের হাত ধরেই নিয়ন্ত্রিত হতো। সমাজের পক্ষে মঙ্গলজনক কোনো কাজ না করলেও প্রায় প্রতিদিন ইলেক্ট্রনিক বা প্রিণ্ট মিডিয়ায় এদের নিয়ে খবর হতো। এরাই ছিল জয়ের পথে বামফ্রন্টের প্রধান অস্ত্র। কিন্তু আজ এরা কোথায়? অথচ এদের ব্যবহারকারীরা আজও সমাজের উঁচু তলায় বাস করে। পরিবারের সদস্যরা সমস্ত সরকারি সুযোগ সুবিধা ভোগ করে। 
       সেভাবে মিডিয়ার শিরোনামে আসতে না পারলেও তৃণমূল রাজত্বেও স্হানীয়ভাবে অনেকের নাম শোনা যায়। কেউ তোলাবাজীর সঙ্গে যুক্ত, কেউবা সরকারি ত্রাণের ত্রিপল, চাল লুঠ করে। অথবা গরীব মানুষের বাড়ি তৈরির টাকায় ভাগ বসায়। পরিণতি না ভেবে দল জেতার পর এরাই হৈ হৈ করতে করতে বিরোধীদের আক্রমণ বা ঘর ভাঙচুর করতে ছোটে। এদের জন্যেই দল তথা দলনেত্রীকে প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়। 
          মূলত এদের প্রত্যেকের প্রশ্রয় তথা আশ্রয় দাতা হলো উপর তলার নেতারা। নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থে এদের ব্যবহার করা হয়। সমাজের 'কাল্ট ফিগার' সাজার লোভে এরাও জ্ঞাত বা অজ্ঞাতসারে নানা সামাজিক কুকর্মে জড়িয়ে পড়ে। নেতারা সাময়িক ভাবে পুলিশের হাত থেকে বাঁচালেও দিনের শেষে এদের পরিচয় হয় ক্রিমিন্যাল। 
      রাজনৈতিক পট পরিবর্তন হলে এদের কারও স্হান হয় জেলের অন্ধকার কুঠুরিতে। কেউ কেউ হয় এলাকা ছাড়া। কেন্দ্রীয় বাহিনীর কড়া পাহারায় ভোট নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা যে এদের একেবারেই নাই সেটা আজ প্রমাণিত।
       তবুও রাজনৈতিক দলগুলো এদের ব্যবহার করে। এরাও নিজেদের পরিবার-পরিজনদের অথৈ জলে ফেলে দেয়। এরা বুঝতেই পারেনা পূর্বসূরিদের মত এদেরও স্হান হবে ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে। কবে এরা সচেতন  হবে? আর কবেই বা নিজেদের স্বার্থে এক শ্রেণির ব্যর্থ নেতা-নেত্রীরা এদের ব্যবহার করা বন্ধ করবে?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *