প্রশাসন

মানসিক অশান্তি বেড়াজালে থাকা মানুষদের পাশে ‘কন্ঠের উদ্যোগ’

জ্যোতিপ্রকাশ মুখার্জি


আত্মহত্যা বা খুন – যাইহোক না কেন বাস্তব সত্য হলো অভিনেতা সুশান্ত সিং রাজপুত চিরদিনের জন্য না-ফেরার দেশে চলে গেছেন। কিন্তু যাবার সঙ্গে সঙ্গে বহু চর্চিত ‘ডিপ্রেসন’ শব্দটিকে নিয়ে নতুন করে চর্চা করার সুযোগ করে দিয়ে গেছেন।
বাস্তব জীবনে ‘ডিপ্রেসন’ শব্দটির তাৎপর্যের গভীরতা তার আভিধানিক অর্থকে বারবার অতিক্রম করেছে। শিক্ষিত ছেলেমেয়ে চাকরি না পেয়ে, প্রেমের সম্পর্ক পরিবার মেনে না নিলে, পরীক্ষায় আশানুরূপ ফল না হলে, একাকিত্ব ভোগ করলে অথবা সমকামিতার সম্পর্ক সমাজ মেনে না নিলে ‘মনমরা’ হওয়ার থেকে ভুক্তভোগী ‘ডিপ্রেসন’-এ বেশি ভোগে এবং অনেকেই শেষ পর্যন্ত বেছে নেয় আত্মহত্যার পথ।
গত প্রায় চার মাস ধরে লকডাউন জনিত কারণে মানুষ গৃহবন্দী। অনেকেই কাজ হারিয়ে সংসার প্রতিপালন করার চিন্তায় চিন্তিত। কেউ বা দীর্ঘদিন ধরে প্রেমিকার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে না পেরে হতাশাগ্রস্ত। অন্যান্য সময় হলেও এই সময় বেশি করে একদল মানুষের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা বাড়ছে। ‘সেলিব্রিটি’ থেকে শুরু করে কয়েকজন সাধারণ মানুষ আত্মহত্যাও করে বসেছে।
এই ঘটনা মনের মধ্যে আঘাত করে লণ্ডনে ‘সমাজবিদ্যা’ নিয়ে পড়াশোনা রত নদীয়ার স্বাক্ষদীপের। লকডাউন জনিত কারণে বর্তমানে সে দেশেই আছে। বিভিন্ন কারণে ‘ডিপ্রেসন’-এ ভোগা মানুষগুলোকে ‘মেণ্টাল সাপোর্ট’ দেওয়ার জন্য বন্ধু স্বয়মদীপ্তের সঙ্গে হাত মিলিয়ে এবছরের এপ্রিল মাসে গড়ে তোলে ‘কণ্ঠের উদ্যোগ’। সঙ্গে পেল ‘ক্লিনিক্যাল সাইকোলোজি’র স্নাতকোত্তর দ্বিতীয় বর্ষের তানেয়া ও শ্রীনিক এবং গতবছর সংশ্লিষ্ট পাঠ সম্পূর্ণ করা অরুণিতাকে।এদের মধ্যে তানেয়া ও শ্রীণিক সি.আই.এন.আই, এস.এস.কে.এম ও পাভলভ মানসিক হাসপাতালের সঙ্গে যুক্ত এবং অরুণিতা কলকাতার মনোবিকাশ কেন্দ্র ও হাপজের পরামর্শদাতা হিসেবে যুক্ত।
দুই বন্ধুর সঙ্গে কথা বলে জানা গেল – তাদের মূল লক্ষ্য হলো ‘ডিপ্রেসন’-এ ভোগা মানুষগুলোর দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়া। লকডাউনের মাঝে টেলিফোনের সাহায্যে ইতিমধ্যেই তারা শতাধিক মানুষকে সুস্থ করে তুলেছে। দু-একজনকে মুখোমুখি বসিয়ে সাহায্য করা হয়েছে। ভবিষ্যতে কাজের ক্ষেত্র আরও বৃদ্ধি করার তাদের ইচ্ছে আছে।
অরুণিতা ও তানেয়ার কাছে জানা গেল – তারা মন দিয়ে ভুক্তভোগীর সমস্যা শোনে। তারপর তাদের বিষয়টি বোঝানোর চেষ্টা করে।অনেক সময় ‘কনফারেন্স’ এর মাধ্যমে তিন জন পরামর্শ দেওয়ার চেষ্টা করে। তবে কাজটা একটা ‘সিটিং’ এ সম্ভব হয়না। একাধিক বার কথা বলতে হয়। অভিভাবকদের কাছে তিন জনেরই অনুরোধ সমস্যা জর্জরিত সন্তানদের অন্তত একবার মনোবিদদের কাছে নিয়ে যেতে।
এদের কাছে সাহায্য পাওয়া প্রেম জনিত সমস্যায় জর্জরিত দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী গড়িয়ার পর্ণা (নাম কাল্পনিক) বললেন – এদের পরামর্শ না পেলে আমি হয়তো আত্মহত্যা করতাম। এরাই আমাকে সমস্যা অতিক্রম করিয়ে স্বাভাবিক জীবন-যাপনের পথ দেখিয়েছে। তারও অনুরোধ চরম পথ বেছে নেওয়ার আগে ‘কণ্ঠের উদ্যোগ’ বা এই ধরনের সংস্থার কাছে একবার পরামর্শ নেওয়া।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *