রাজনীতি

দলের সুদিনে দল ছাড়লেন দুর্দিনে থাকা গুসকারার নিতাই

জ্যোতিপ্রকাশ মুখার্জি


অবশেষে একরাশ অভিমান বুকে নিয়ে, যদিও তিনি বার্ধক্য জনিত কারণ বলছেন, তৃণমূল কংগ্রেস তথা রাজনীতি মঞ্চ ত্যাগ করলেন পূর্ব বর্ধমানের গুসকরা পৌরসভার তিন বারের কাউন্সিলর ও দু’বারের বিরোধী দলনেতা প্রবীণ নিত্যানন্দ চ্যাটার্জ্জী। এক চিঠির মাধ্যমে তিনি নাকি তার এই সিদ্ধান্তের কথা রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সী ও দলীয় মুখপত্র তথা পূর্ব বর্ধমান জেলার জেলা পরিষদের সহ সভাধিপতি দেবু টুডুকে জানিয়ে দিয়েছেন । এছাড়া বিভিন্ন সমাজ মাধ্যমেও তিনি এই সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেন।
এই প্রবীণ রাজনীতিবিদ ১৯৯৮ সালের ১ লা জানুয়ারী দলের প্রতিষ্ঠা দিবসে কলকাতার শহীদ মিনারে অজিত পাঁজার হাত থেকে দলীয় পতাকা গ্রহণ করেন। তারপর বাইশ বছর ধরে দলের সুখ-দুখের অংশীদার হয়ে অবশেষে রাজনীতির জগত থেকেই সরে গেলেন।
১৯৯৮ সালে সি.পি.এমের তৎকালীন দাপুটে নেতা রবি মাজিকে পরাস্ত করে তিনি প্রথম বারের জন্য কাউন্সিলর হন এবং গুসকরা পৌরসভায় পা রাখেন। তারপর ২০০৩ ও ২০১৩ সালেও তিনি জয়ী হন। মাঝে ২০০৮ সালে তার ওয়ার্ডটি সংরক্ষণের আওতায় পড়ে যাওয়ায় সেবার তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেননি।কাউন্সিলর হিসেবে ২০১৯ সালের ৩ নভেম্বর শেষ বারের মত তিনি পৌরসভায় পা রাখেন। প্রসঙ্গত নিতাই বাবু (এই নামেই তিনি বেশি পরিচিত ) কোনোদিনই পৌরভোটে হারেননি।
বার্ধক্য জনিত কারণ বললেও অনেকের মতে মূলত অবহেলার জন্যই তিনি রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ালেন। গত কয়েক বছর ধরে তাকে পুরোপুরি নিষ্ক্রিয় করে রাখা হয়েছিল।প্রাপ্য সম্মান পাচ্ছিলেন না। দু’বার বিরোধী দলনেতা থাকা সত্ত্বেও দু’বার ক্ষমতা লাভ করার পরও দল তাকে পৌরপিতা করেনি। অনেকের মতে ২-৩ বছর আগেও যারা সি.পি.এম করত এবং তৃণমূলে যোগ দিয়েই দলের দুর্দিনের কর্মীদের বঞ্চিত করে দলীয় পদ পেয়ে যাওয়া তিনি মেনে নিতে পারেননি। যদিও তিনি দলের সম্বন্ধে কোনো বিরূপ মন্তব্য করেননি। তিনি চেয়েছেন নবীনদের হাত ধরে দল আরও শক্তিশালী হোক।
নিতাই বাবুর রাজনীতি থেকে সরে যাওয়া নিয়ে আউসগ্রামের কোনো দলীয় নেতা কোনো মন্তব্য করতে চাননি। প্রত্যেকের একটাই বক্তব্য উনি প্রবীণ নেতা এবং এটা উনার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *