পুলিশ

ভোট পরবর্তী হিংসায় পিটিয়ে খুন খয়রাশোলে

খায়রুল আনাম, ৮ মে

 ভোট পরবর্তী হিংসায় লুঠ ও পিটিয়ে খুনের অভিযোগ  খয়রাশোলে
       
এবারের রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের আগে থেকেই জেলা বীরভূমে যে রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়েছে, তা এখনও অব্যাহত রয়েছে। জেলাকে বিরোধী শূন্য করার কথা শাসক তৃণমূল কংগ্রেসের দিক থেকে  বলা হলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। জেলার ১১ টি বিধানসভা আসনের মধ্যে ১০টি তৃণমূল কংগ্রেস দখল  করতে পারলেও, দুবরাজপুর আসনটি তাদের হারাতে হয় বিজেপির কাছে। আর এই আসনটি জয়ের মধ্যে দিয়েই বিজেপি এই প্রথম জেলায় তাদের খাতা খুলতে পারলো। দুবরাজপুরে জয়ী হয়েছেন বিজেপির  অনুপ সাহা। নির্বাচনের আগে এবং নির্বাচন পরবর্তী সময়ে  জেলায় তৃণমূল কংগ্রেসের হাতে তাঁদের কর্মীরা আক্রান্ত হচ্ছেন, বাড়িঘরে লুঠপাট  হচ্ছে  বলে বিজেপির পক্ষ থেকে বার বার অভিযোগ করা হয়েছে। ভোটের ফল প্রকাশের পরেই ইলামবাজারে বিজেপির বুথ এজেন্ট  গৌরব সরকারকে   প্রকাশ্য দিনের আলোয় বাড়ি থেকে বের করে এনে তৃণমূল কংগ্রেসের লোকজনেরা পিটিয়ে খুন করে বলে অভিযোগ। এবার আবারও পিটিয়ে খুনের অভিযোগ উঠলো জেলায়। তবে, এবার এক তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীকে পিটিয়ে খুনের অভিযোগ আনা হয়েছে বিজেপির বিরুদ্ধে। এই ঘটনাটি ঘটেছে দুবরাজপুর বিধানসভার খয়রাশোল ব্লকের মুক্তিনগর গ্রামে। এই হামলায় আহত চারজনকে নিয়ে গিয়ে ভর্তি করা হয়েছে সিউড়ীর জেলা সদর হাসপাতালে।      ঘটনাসূত্রে জানা যায় যে, দুবরাজপুর বিধানসভায় বিজেপির অনুপ সাহা জয়ী হওয়ার পর থেকেই এলাকার পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে রয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে   বলা হয়েছে যে, মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শপথ নেওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে তারা উৎসাহিত হয়ে শুক্রবার ৭ মে রাত্রে খয়রাশোলের মুক্তিনগরের মাঠে একটি পিকনিকের আয়োজন করে। সেখানে  রানীপাথার, মুক্তিনগর, আমডোলা-সহ আরও কয়েকটি গ্রামের প্রায় দেড়শো জন  তৃণমূল কংগ্রেস কর্মী উপস্থিত ছিলেন। সেখানেই বিজেপি কর্মীরা অতর্কিতে তাঁদের উপরে বাঁশ, লাঠি, লোহার রড নিয়ে হামলা চালায় এবং তাঁদের এক দলীয় কর্মীকে পিটিয়ে খুন করে। দলীয় কার্যালয়ে থাকা বহু কাগজপত্রও লুঠ করে নিয়ে যাওয়া হয়। যদিও বিজেপির পক্ষ থেকে এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলা হয়েছে যে, তাঁদের উপরে হামলার আশঙ্কায় তাঁরা গ্রাম পাহারা দিচ্ছিলেন। কোনও হামলার ঘটনা ঘটেনি।      রাতের এই ঘটনার রেশ কাটার আগেই শনিবার  ৮ মে সকাল ৮ টা নাগাদ খয়রাশোল পঞ্চায়েত সমিতির স্বাস্থ্য কর্মাধ্যক্ষ তৃণমূল কংগ্রেসের  মাখন মুখোপাধ্যায়ের বাড়িতে বিজেপির কয়েকশো লোক মোটরবাইকে এসে হামলা চালায় বলে অভিযোগ।  ওই সময় মাখনবাবু বাড়িতে ছিলেন না। বাড়িতে কেবলমাত্র দু’জন মহিলা ছিলেন। তাঁদের সামনেই বাড়িতে ব্যাপক লুঠপাট ও গাড়ি-সহ  অন্যান্য  সামগ্রী ভাঙচুর করা  হয় বলে অভিযোগ। তবে, তাঁরা কারও নাম বলেননি।  ঘটনার পরই ঘটনাস্থলে বিশাল পুলিশ বাহিনী গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং পুলিশি টহল শুরু করা হয়েছে। জেলা পুলিশ সুপার নগেন্দ্রনাথ ত্রিপাঠী জানিয়েছেন,  কোনও  অশান্তি বরদাস্ত   করা হবে না।  পুলিশ কঠোর হাতে পরিস্থিতি  নিয়ন্ত্রণে এনেছে ।।    

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *