প্রশাসন

রামপুরহাট হাসপাতালে অক্সিজেন প্ল্যান্ট বসানোর কাজ শুরু

খায়রুল আনাম সম্পাদক সাপ্তাহিক বীরভূমের কথা,

 রামপুরহাট মেডিকেলে  অক্সিজেন প্ল্যান্ট বসানোর কাজ শুরু
       
কোভিড আক্রান্ত হয়ে যাঁরা গুরুতর অসুস্থ হচ্ছেন  তাঁদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়া ক্ষেত্রে অক্সিজেন দেওয়া জরুরি হওয়া সত্বেও অক্সিজেনের যোগান না থাকায়, রোগীদের তা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এনিয়ে প্রতিনিয়ত সমস্যায় পড়ছেন রোগীর আত্মীয় ও চিকিৎসকেরা। বিভিন্ন জায়গা থেকেই অক্সিজেনের অভাবে রোগীর মৃত্যু এবং অশান্তির খবরও আসছে। এই পরিস্থিতির দিকে নজর দিয়ে এবং সমস্যা সমাধানের উদ্দেশ্যে  বীরভূমের রামপুরহাট মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল চত্বরে শনিবার ৯ মে থেকে  অক্সিজেন প্ল্যান্ট বসানোর কাজ শুরু করে  দেওয়া হলো। আগামী দু’সপ্তাহের মধ্যে এই  কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। এই কাজ সম্পূর্ণ হয়ে গেলে  রোগীকে আর  প্রয়োজনীয় অক্সিজেনের সমস্যায় পড়তে হবে না। চিন্তামুক্ত হবেন রোগীর  আত্মীয়রাও।        করোনার দ্বিতীয় ঢেউ আছড়ে পড়তেই কোভিড আক্রান্তদের অনেকেই গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাঁদের চিকিৎসা পরিষেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছে স্বাস্থ্য দফতর এবং আক্রান্তদের পরিজনেরা। এরফলে এখানকার ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটের চাহিদাও উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। কিন্তু রামপুরহাট মেডিকেলে ক্রিটিক্যাল   কেয়ার ইউনিটে শয্যা সংখ্যা কম থাকায় তা বাড়াবার সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্বাস্থ্য দফতর। রামপুরহাট মেডিকেলের সুপার স্পেশালিটি বিল্ডিংয়ে ১৪৮ শয্যার কোভিড ওয়ার্ড ও ১২ শয্যার সিসিইউ বিভাগ রয়েছে। অনেক সময়ই দেখা যাচ্ছে,  কোভিড ওয়ার্ডে অধিকাংশ সময় শয্যা খালি থাকলেও চাহিদা থাকছে সিসিইউ শয্যার।  তাই সিসিইউতে যে ১২টি শয্যা রয়েছে,  তার সাথে অতিরিক্ত ১৮ টি শয্যা বাড়িয়ে এই সংখ্যাটি ৩০ করা হচ্ছে। সেইসাথে প্রতিটি ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে  কমপক্ষে ২টি থেকে ৫টি  আইসোলেশন শয্যার ব্যবস্থা রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে স্বাস্থ্য দফতরের পক্ষ থেকে।  কোনও রোগীকে যাতে ফিরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ  না ওঠে সে জন্য  রোগীকে  যে অবস্থাতেই নিয়ে আসা হোক  না কেন, তাঁদের ভর্তি করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা  পরিষেবা সুনিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।  কেউ গুরুতরভাবে অসুস্থ হলে তাঁকে মেডিকেলে স্থানান্তর করার কথা বলা হয়েছে।  কোভিড আক্রান্তদের একটা বড় অংশই এখন হোম আইসোলেশনে রয়েছেন। তাঁদের জন্য টেলিমেডিশন পরিষেবা চালু করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। সেইসাথে যাঁরা হোম আইসোলেশনে রয়েছেন তাঁরা যাতে কোনও অসুবিধায় না পড়েন  বা অসুবিধায় পড়লে  তাঁদের যাতে দ্রুত কোভিড হাসপাতালে স্থানান্তর করা যায়, সে জন্য প্রয়োজনীয় অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা রাখার নির্দেশও  দেওয়া হয়েছে।    জেলায় করোনা সংক্রমণ দ্রুতহারে বেড়ে চলায় তা নিয়ন্ত্রণে আনতে জেলাশাসক  দেবীপ্রসাদ করনম জেলার ৬টি পুরসভার প্রশাসক,  তিন মহকুমা শাসক-সহ প্রশাসনের  উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের সাথে জরুরি ভার্চুয়াল বৈঠকও করলেন।  সেই ভার্চুয়াল বৈঠকে দ্রুতহারে ছড়িয়ে পড়া সংক্রমণ রুখতে কী কী প্রস্তুতি নেওয়া প্রয়োজন তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা  হয়।  পুর প্রশাসকরা সংক্রমণ রুখতে প্রয়োজনীয়  সামগ্রী, অর্থ অনুমোদনের জন্য জেলাশাসকের কাছে আবেদন রাখেন।  সেইসাথে  ভার্চুয়াল বৈঠকে মৃতদেহ সৎকার, পুর এলাকায় পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, নাগরিক সচেতনতা বাড়াবার উপরেও জোর দেওয়া হয় ।।                                 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *