প্রশাসন

লকডাউনের বিভ্রান্তি সময়সূচি ঘিরে বীরভূমে জটিলতা

খায়রুল আনাম

করোনা পরিস্থিতি জেলা বীরভূমের মানুষের ঘাড়ের উপরে বাঘের মতো ঝাঁপিয়ে পড়েছে। আর এক্ষেত্রে জেলা প্রশাসন লকডাউন ঘোষণার ক্ষেত্রে চরম দিশাহীনতাতেও ভুগছেন বলে মনে করছেন অনেকেই। কবে, কখন, কোথায়, কতটা সময় লকডাউন হবে তার কোনও স্থিরতা না পাওয়ার কারণে সাধারণ মানুষকে চরম হয়রানি ও বিভ্রান্তির মধ্যে পড়তে হচ্ছে। সড়ক পরিবহন ব্যবস্থা মোটের উপরে সচল থাকার ফলে দমবন্ধ হওয়া মানুষ নানান কাজে বেরিয়েও পড়ছেন। আর তারপরই তারা লকডাউনের গেরোয় এসে আটকে পড়ে হয়রানির শিকার হচ্ছেন। নানা স্থানে নানা ধরনের এবং সম্প্রদায়ের বিভিন্ন ধরনের অনুষ্ঠান থাকে। সে সবকে মান্যতা দিয়ে লকডাউনের তারিখ ও সীমানা নির্ধারিত হলে, আদৌ কী কোথাও লকডাউন করা সম্ভব হবে ? এ বিষয়ে প্রশাসনকেই স্থির সিদ্ধান্ত নিয়ে তা হাতে সময় রেখেই ঘোষণা হওয়াটা বাঞ্ছনীয়।
বীরভূম জেলার রামপুরহাট এলাকায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। রামপুরহাট মহকুমার দুই পুরসভা ও ছয় ব্লকে লকডাউনের যে তারিখ ও সময় সীমা ঘোঘণা করা হয়েছিল, তাতে হঠাৎই পরিবর্তন আনা হয় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে। বলা হয়, স্কুলগুলি থেকে মিড-ডে মিলের চাল ও অন্যান্য সামগ্রী বিলির জন্য এই পরিবর্তন আনা হলো। তাহলে, তারিখ ঘোষণার আগে এ বিষয়টি দেখা হয়নি কেন? এতে তো জেলা প্রশাসনের সমন্বয়ের অভাবটাই প্রকট হচ্ছে।
গত মঙ্গলবার ৪ আগস্ট জেলা প্রশাসন বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে জানিয়ে দেয়, রামপুরহাট ও নলহাটি পুরসভা-সহ ছয়টি ব্লকে বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার অর্থাৎ ৬ ও ৭ আগস্ট সম্পূর্ণ লকডাউন হবে। এরপরই অনেকেই বলেন, এরফলে মানুষকে অসুবিধায় পড়তে হবে। মিড-ডে মিলের চাল ও অন্যান্য সামগ্রী বিলিতে অসুবিধা হবে। আর তারপরই আগের বিজ্ঞপ্তি বাতিল করে দিয়ে জানানো হয়, রামপুরহাট ও নলহাটি, এই দুই পুর এলাকা-সহ মহকুমার ছয়টি ব্লকে সকাল ছয়টার পরিবর্তে দুপুর ২ টো থেকে রাত্রি ১০ টা পর্যন্ত লকডাউন চলবে। জেলার সিউড়ি, দুবরাজপুর, সাঁইথিয়া ও বোলপুর পুরসভা এলাকায় অবশ্য পূর্ব ঘোষিত সময় দুপুর ২ টো থেকেই লকডাউন শুরু হবে। অন্তত এখনও পর্যন্ত তাই-ই ঠিক রয়েছে ।।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *