রাজনীতি

চলে গেলেন বরাহনগরের গণপতি মজুমদার

চলে গেলেন বরানগরের গণপতি মজুমদার

সুবল সাহা

পিন্টু মাইতি

বরানগর অঞ্চলের বিশিষ্ট তৃণমূল কংগ্রেস নেতা, সংগঠক ও উদ্বাস্তু আন্দোলনের অগ্রগণ্য ব্যক্তিত্ব “গণাদা” তথা গণপতি মজুমদারের জীবনাবসান হল। ৪ আগস্ট সকালে ডানলপ অশোকগড়ের নিজস্ব বাসভবনে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৪। করোনা থেকে সুস্হ হয়ে ওঠার পর বেশ কিছুদিন যাবৎ তিনি দুরারোগ্য লিভার ক্যান্সারে ভুগছিলেন। একান্নবর্তী পরিবারে বাস করা গণপতি মজুমদার রেখে গেলেন তাঁর স্ত্রী শর্মিলা মজুমদার, এক বিবাহিতা কন্যা ও অসংখ্য গুণমুগ্ধদের।

করোনা আবহে লকডাউন চলাকালীন ষাটোর্দ্ধ গণপতিবাবু অঞ্চলের দুঃস্থ ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে দৌড়ঝাঁপ করছিলেন। বরানগর অঞ্চলের ভারতপল্লী, আলমবাজার নবজ্যোতি সংঘ, বালক সংঘ, বরানগর তৃণমূলের বিভিন্ন কর্মসূচিতে তাঁর উপস্থিতি সকলকে উদ্বুদ্ধ করে।
গণপতিবাবু যুব বয়সেই কংগ্রেসী রাজনীতিতে যোগদান করে ছাত্র ও যুব সংগঠনে নিজের নেতৃত্ব প্রদানের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। পরবর্তীতে মমতা ব্যানার্জীর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদান করে তাঁর সর্বজনগ্রাহ্যতা ও সাংগঠনিক দক্ষতার জোরে বহু মানুষকে তৃণমূলের পক্ষে টানতে সমর্থ হন। বরানগর পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ড অন্তর্গত ভারতপল্লী ও সর্ব্বহারা কলোনী গঠনের পেছনে তাঁর ভূমিকা ছিল একেবারে অগ্রগণ্য।

তদানীন্তন মুখ্যমন্ত্রী সিদ্ধার্থ শংকর রায় সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে ঐ দুটি কলোনী স্হাপনে তাঁর সাহসী নেতৃত্বকে আজও কলোনীবাসীরা কুর্নিশ করেন। বহু মানুষের মাথার উপরে ছাদের ব্যবস্থা করা গণপতি মজুমদার ছিলেন দক্ষিণেশ্বর বেসরকারী বাস সংগঠনের সভাপতিও ।

বর্ষীয়ান নেতাদের মধ্যে বিশিষ্টজনেদের অন্যতম গণপতিবাবু অচিরেই ছাত্র-যুব-মহিলা-কিশোরদের অভিভাবক হয়ে উঠেছিলেন। অঞ্চলের বহু ক্লাব, গণসংগঠনের উপদেষ্টা ও হিতাকাঙ্ক্ষী হিসেবে “গণাদা” ছিলেন অতি জনপ্রিয়। তৃণমূল কংগ্রেসের বিভিন্ন আন্দোলনে মমতা ব্যানার্জীর হাত শক্ত করতে তাঁর যোগ্য নেতৃত্বদান রাজ্যস্তরের নেতাদের দ্বারা প্রশংসিত হয়। তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন দমদম লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ সৌগত রায় , রাজ্যের মন্ত্রী তথা বরানগরের বিধায়ক তাপস রায়, যুব তৃণমূল নেতা পুলক ঘোষ, অনিন্দ্য চৌধুরী, রবীন বিশ্বাস সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

সৌগত রায় বলেন, বরানগর অঞ্চলের বর্ষীয়ান নেতাদের মধ্যে গণপতি মজুমদার সকলের প্রিয় একজন। তাঁর বলিষ্ঠ নেতৃত্ব মানুষকে একত্রিত করার উল্লেখনীয় দাবি রাখে। একজন সক্রিয় নেতার অকাল মৃত্যুতে তিনি অত্যন্ত ব্যথিত হয়েছেন। তিনি জানান, উদ্বাস্তু আন্দোলন সহ বিভিন্ন ক্লাব-সংগঠনের সাথে তাঁর কর্মময় ইতিহাসকে বরানগরবাসী সবসময় মনে রাখবে। তাঁর অকাল মৃত্যুতে প্রতিক্রিয়া জানান মন্ত্রী তাপস রায়। তিনি বলেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে গণপতি মজুমদারের সাথে তাঁর সুসম্পর্ক বজায় ছিল। বরানগরের তৃণমূল কংগ্রেসের বিভিন্ন আন্দোলনে একজন ভালো সহকর্মী হিসেবেও গণপতিবাবু সাক্ষর রেখে গেছেন। বরাবরের কংগ্রেসী রাজনীতিমনস্ক গণপতি মজুমদারের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি তিনি সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।
প্রয়াত মজুমদারের মরদেহ ঐদিন নিয়ে আসা হয় দক্ষিণেশ্বর বাস টার্মিনাসের ইউনিয়ন অফিসে। সেখানে বহু মানুষ ও নেতৃবৃন্দ তাঁর শায়িত মরদেহে মাল্যদান করে শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। কাশীপুর মহাশ্মশানে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *