পূর্ব মেদিনীপুরের মুরাদপুরে থ্যালাসেমিয়া সচেতনতা ও স্ক্রিনিং শিবির

পূর্ব মেদিনীপুরের মুরাদপুরে থ্যালাসেমিয়া সচেতনতা ও স্ক্রিনিং শিবির

আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার মুরাদপুরে অবস্থিত বিবেকানন্দ লোকশিক্ষা মন্দির–এ রোটারি ক্লাব অফ ক্যালকাটা মেগা সিটি–এর উদ্যোগে এবং থ্যালাসেমিয়া মুক্ত ভারত প্রচারাভিযানের অংশ হিসেবে একটি বিশেষ থ্যালাসেমিয়া সচেতনতা ও রক্ত পরীক্ষার শিবির আয়োজন করা হয়।

এই অনুষ্ঠানে প্রায় ১০০-রও বেশি ছাত্রী এবং তাঁদের মা, অভিভাবক ও শিক্ষক-শিক্ষিকা অংশগ্রহণ করেন। আন্তর্জাতিক নারী দিবসকে কেন্দ্র করে বিশেষভাবে কিশোরী ছাত্রী ও মহিলাদের নিয়ে এই সচেতনতা কর্মসূচি আয়োজন করা হয়, যা সমাজে স্বাস্থ্য সচেতনতার ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এর মূল লক্ষ্য ছিল বংশগত রক্তরোগ থ্যালাসেমিয়া (Thalassemia) সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা এবং প্রতিরোধমূলক রক্ত পরীক্ষা বা স্ক্রিনিংয়ের গুরুত্ব সম্পর্কে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করা।

সচেতনতা অধিবেশন পরিচালনা করেন দীর্ঘদিনের থ্যালাসেমিয়া বিরোধী আন্দোলনের সক্রিয় কর্মী Subhojit Roy। তাঁর বক্তব্য, যুক্তিপূর্ণ ব্যাখ্যা ও উদাহরণসমৃদ্ধ আলোচনা ছাত্রী ও তাঁদের অভিভাবকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে। এই সচেতনতা কর্মসূচির প্রভাবে ৫১ জন ছাত্রী স্বেচ্ছায় রক্ত পরীক্ষা করার জন্য এগিয়ে আসে, যা এই উদ্যোগের সাফল্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবে ধরা যায়।

অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাক্তন রোটারি ইন্টারন্যাশনাল ডিরেক্টর অনিরুদ্ধ রায় চৌধুরী এবং সমাজকর্মী শুভজিৎ রায় । তাঁরা শিক্ষার্থী, যুবসমাজ ও অভিভাবকদের উদ্দেশে বলেন যে, থ্যালাসেমিয়া প্রতিরোধের জন্য বিয়ের আগে রক্ত পরীক্ষা বা ক্যারিয়ার স্ক্রিনিং অত্যন্ত জরুরি। সচেতনতা বাড়লে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে এই জটিল বংশগত রোগ থেকে অনেকাংশে রক্ষা করা সম্ভব।

এই কর্মসূচিটি আয়োজন করেন রোটারি ক্লাব অফ ক্যালকাটা মেগা সিটি –এর সভাপতি অমর্ত্য চক্রবর্তী। ক্লাবের প্রাক্তন সভাপতি রোটারিয়ান অসিত বরণ ভট্টাচার্য–এর বিশেষ উদ্যোগ, পরিকল্পনা ও সহযোগিতায় এই সামাজিক স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম বাস্তবায়িত হয়।

অনুষ্ঠানের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে একটি পানীয় জল পরিশোধন প্রকল্পের উদ্বোধন। এই প্রকল্পটি Tata Group–এর কর্পোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (CSR) কর্মসূচির সহায়তায় একটি গ্লোবাল গ্র্যান্ট প্রকল্প হিসেবে বাস্তবায়িত হয়েছে। এর ফলে বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং স্থানীয় গ্রামাঞ্চলের মানুষ নিরাপদ ও বিশুদ্ধ পানীয় জলের সুবিধা পাবে।

অনুষ্ঠানের শেষে উপস্থিত ছাত্রছাত্রী, যুবসমাজ ও তাঁদের অভিভাবকদের উদ্দেশে আহ্বান জানানো হয় যে, তাঁরা যেন নিজেদের পরিবার, পাড়া, গ্রাম ও বৃহত্তর সমাজে থ্যালাসেমিয়া সম্পর্কে সচেতনতা ছড়িয়ে দেন। সম্মিলিত প্রচেষ্টা, যুক্তিসঙ্গত উদ্যোগ এবং যথাযথ পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে এই মারাত্মক বংশগত রোগের ঝুঁকি থেকে সুরক্ষিত রাখা সম্ভব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *