আন্তর্জাতিক নারী দিবসের পথসভা থেকে মার্কিন ও ইজরায়েলের যৌথ বাহিনীর বর্বরোচিত হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ

আন্তর্জাতিক নারী দিবসের পথসভা থেকে মার্কিন ও ইজরায়েলের যৌথ বাহিনীর বর্বরোচিত হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ

সেখ রিয়াজুদ্দিন বীরভূম
৮ ই মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবসকে সামনে রেখে রবিবার সন্ধ্যায় সিউড়ি বাসষ্ট্যান্ড চত্বরে একটি প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয় জাগো নারী জাগো বহ্নিশিখা সিউড়ি শাখার পক্ষ থেকে। নারীর মর্যাদা ও সমঅধিকার প্রতিষ্ঠা লড়াইয়ে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়। এদিনের সভায় বক্তব্য রাখেন সংগঠনের পক্ষে বর্ণা চট্টরাজ , শেফালী তেওয়ারি, যুথিকা ধীবর প্রমুখ। বক্তব্যের মাধ্যমে নারী দিবসের তাৎপর্য ব্যাখ্যা করে বলেন যে ১৮৫৭ সালের ৮ ই মার্চ নিউইয়র্কের সুতা কারখানায় নারী আন্দোলনের সুচনা হয়।প্রেক্ষাপট ছিল মজুরি বৈষম্য, কর্মঘণ্টা, অমানবিক- অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ, নির্যাতনের প্রতিবাদ এবং ভোটাধিকারের দাবী। সেদিন হাজার হাজার নারীর মিছিলে পুলিশ নৃশংসভাবে হামলা চালায়। এরফলে আহত, নিহত এবং গ্রেফতার হন অসংখ্য নারী শ্রমিক। এই আন্দোলনের ঢেউ ছড়িয়ে পড়ে বিভিন্ন দেশে। পরবর্তীতে ১৯১০ সালের ডেনমার্কে কোপেনহেগেনে দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক সম্মেলনে সমাজতান্ত্রিক নারী নেত্রী ক্লারা জেৎকিন ৮ ই মার্চ নারী দিবস ঘোষণার প্রস্তাব করেন এবং তা সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়। বক্তব্যে আরও বলেন নারী দিবস উদযাপন হচ্ছে ঠিক কিন্তু নারী আজও তার মর্যাদা -সমঅধিকার প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি। তাই নারী দিবসের চেতনাকে ধারন করে নারীর সমঅধিকার ও মর্যাদা এবং বৈষম্যহীন সমাজ নির্মাণে সমাজতান্ত্রিক তথা সাম্যবাদী চেতনায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। পাশাপাশি অব্যাহত নারী-শিশু নির্যাতন ধর্ষণ, হত্যা বন্ধ করা এবং দোষীদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি তোলেন। সামাজিক অবক্ষয় রোধে অপসংস্কৃতি – অশ্লীলতা,মাদক -জুয়া, পর্নোগ্রাফি বন্ধ সহ কুসংস্কার ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে আওয়াজ তোলে পথসভা থেকে। পাশাপাশি সাম্প্রতিক ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ইরানের উপর মার্কিনও ইজরায়েলের যৌথ বাহিনীর বর্বরোচিত হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয় আন্তর্জাতিক নারী দিবসের অনুষ্ঠান থেকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *