আ্যডামাস ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে ‘সমসারা’—শিশুদের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান


আ্যডামাস ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে ‘সমসারা’—শিশুদের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান

পারিজাত মোল্লা,
শুক্রবার আ্যডামাস ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে রং, ছন্দ ও কল্পনার মনোমুগ্ধকর সমাবেশের সাক্ষী থাকল দর্শকরা। বেলঘরিয়ার স্কুল অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত ‘সামসারা’ শীর্ষক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণীর পড়ুয়ারা উদ্‌যাপন করল নানা সংস্কৃতি, বর্ণিলতা ও আত্মিক সংযোগের গল্প। এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রমাণিত হল, শৈশব শিক্ষায় সাংস্কৃতিক সচেতনতা,সৃজনশীলতা ও আবেগের প্রকাশ কতটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
কলকাতায় নিযুক্ত জাপানের ডেপুটি কনসাল জেনারেল আশিদা কাটসুনোরি’র উপস্থিতি অনুষ্ঠানটিকে আন্তর্জাতিক মাত্রা দেয়। এশিয়া ও অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন দেশে কূটনৈতিক দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতার সঙ্গে কাটসুনোরি সঙ্গীত ও রন্ধনশিল্পের মাধ্যমে জাপানি সংস্কৃতির প্রসারেও বিশেষভাবে পরিচিত—যা কূটনীতি ও সংস্কৃতির মেলবন্ধনের উপযুক্ত উদাহরণ।
সতর্কভাবে পরিকল্পিত সঙ্গীত, নৃত্য ও ভাবনানির্ভর পরিবেশনার মধ্য দিয়ে খুদে শিল্পীরা তুলে ধরল সম্প্রীতি, বৈচিত্র্য ও যৌথ ঐতিহ্যের গল্প। মঞ্চে তাদের আত্মবিশ্বাসী উপস্থিতি ও আবেগঘন পরিবেশনা অভিভাবক, শিক্ষক ও আমন্ত্রিত অতিথিদের কাছ থেকে অকুন্ঠ প্রশংসা কুড়িয়েছে। এর মধ্য দিয়েই প্রাথমিক স্তরে অভিজ্ঞতাভিত্তিক শিক্ষার কার্যকারিতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে আ্যডামাস বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর শমিত রায় প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক শিক্ষাদর্শনের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “শিক্ষার সূচনা হওয়া উচিত সহমর্মিতা ও সাংস্কৃতিক বোঝাপড়া দিয়ে। আ্যডামাসে আমরা বিশ্বাস করি, শিক্ষা কেবল শ্রেণিকক্ষ বা পাঠ্যবইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ‘সমসারা’ আমাদের সেই অঙ্গীকারেরই প্রতিফলন—যার মাধ্যমে ছোটবেলা থেকেই সচেতন, সংবেদনশীল ও দায়িত্ববান বিশ্বনাগরিক গড়ে তোলার চেষ্টা করা হয়।”
আ্যডামাস বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিরেক্টর মল্লিকা রায় শিশুর সার্বিক বিকাশে সৃজনশীল মঞ্চের গুরুত্বের কথা উল্লেখ করে বলেন, “আ্যডামাস ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে আমরা শিশুকেন্দ্রিক শিক্ষাপদ্ধতি অনুসরণ করি, যেখানে সৃজনশীলতা, মূল্যবোধ ও বিশ্বজনীন অভিজ্ঞতা একসঙ্গে বিকশিত হয়। মঞ্চে পারফর্ম করার মাধ্যমে শিশুরা আত্মবিশ্বাস, সহযোগিতা ও বৈচিত্র্যের প্রতি সম্মান শেখে। ‘সমসারা’-এর মতো অনুষ্ঠান কল্পনাশক্তিকে উসকে দেওয়ার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক শিকড়কে আরও দৃঢ় করে।”
স্কুলের প্রিন্সিপাল অনুসুয়া পাল জানান, এই অনুষ্ঠান স্কুলের শিক্ষাদর্শকেই প্রতিফলিত করে। তাঁর কথায়, “আ্যডামাস ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে আমরা অভিজ্ঞতা ও কার্যকলাপনির্ভর শিক্ষার ওপর জোর দিই, যাতে শিশুরা আনন্দের মধ্য দিয়ে নানা সংস্কৃতি,ভাবনা ও আবেগকে অন্বেষণ করতে পারে। ‘সমসারা’ আমাদের এই বিশ্বাসেরই প্রকাশ—যে, শিশুরা যখন মুক্তভাবে নিজেকে প্রকাশের সুযোগ পায়, তখনই প্রকৃত শেখা সম্ভব হয়।”
উৎসবের আবহে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে। ‘সমসারা’ আবারও প্রমাণ করল—শৈশব শিক্ষার মাধ্যমে খুদে কণ্ঠই হয়ে উঠতে পারে সাংস্কৃতিক সেতুবন্ধনের শক্তিশালী মাধ্যম যা সমাজের জন্য আরও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করতে সক্ষম।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *