স্টেট ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া পরবর্তী প্রজন্মের বৃদ্ধির সম্ভাবনাময় সেক্টরগুলোতে দায়িত্বপূর্ণ, এবং ব্যবসাকে বড় করার মত, টাকা জোগানোর দায় নিল

স্টেট ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া পরবর্তী প্রজন্মের বৃদ্ধির সম্ভাবনাময় সেক্টরগুলোতে দায়িত্বপূর্ণ, এবং ব্যবসাকে বড় করার মত, টাকা জোগানোর দায় নিল

দেশের সবচেয়ে বড় সরকারি ব্যাংক স্টেট ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া (এসবিআই) লঞ্চ করল ‘CHAKRA’ – উদীয়মান সেক্টরগুলোর উৎকর্ষ কেন্দ্র (CoE), যা ভারতের অর্থনৈতিক রূপান্তরের জন্য জরুরি। বিকশিত ভারত ২০৪৭-এর প্রতি ব্যাংকের কৌশলগত দায়বদ্ধতা আরও একবার প্রমাণ করে, এই কেন্দ্র জ্ঞানভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম হিসাবে কাজ করবে পরবর্তী প্রজন্মের, প্রযুক্তিভিত্তিক এবং সুস্থায়িতার উপরে জোর দেওয়া উদীয়মান সেক্টরগুলোকে টাকা জোগানোর উপর।

এসবিআই জোর দিচ্ছে দায়িত্বপূর্ণভাবে এই পুঁজিনিবিড় সেক্টরগুলোতে পুঁজি এনে তাদের ক্ষমতায়ন, ঝুঁকির মূল্যায়ন করার ক্ষমতাকে আরও জোরদার করা এবং এমন উদ্ভাবনীমূলক টাকা জোগানোর কাঠামো তৈরি করার উপরে, যা বদলাতে থাকা ব্যবসায়িক মডেল এবং নীতিগত অগ্রাধিকারের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ।

এই কেন্দ্রের উদ্বোধন করেন এম নাগরাজু, সেক্রেটারি, ডিপার্টমেন্ট অফ ফাইন্যানশিয়াল সার্ভিসেস, এবং উপস্থিত ছিলেন এসবিআই চেয়ারম্যান চাল্লা শ্রীনিবাসুলু শেঠি। ব্যাংকের ম্যানেজিং ডিরেক্টররা এবং অন্যান্য সরকারি ব্যাংক ও আন্তর্জাতিক ব্যাংকের প্রতিনিধিরা, অগ্রগণ্য কনগ্লোমারেট, আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো, শিল্প সংগঠনগুলো এবং এই বাস্তুতন্ত্রের অন্য প্রধান অংশগ্রহণকারীরাও লঞ্চ ইভেন্টে উপস্থিত ছিলেন।

লঞ্চ উপলক্ষে এম নাগরাজু, সেক্রেটারি, ডিপার্টমেন্ট অফ ফাইন্যানশিয়াল সার্ভিসেস, ভারত সরকার, বললেন “CHAKRA সেন্টার অফ এক্সেলেন্স স্টেট ব্যাংক অফ ইন্ডিয়ার এক প্রশংসনীয় উদ্যোগ। নলেজ শেয়ারিং, প্রকল্পের মূল্যায়ন, সক্ষমতা গড়ে তোলা ও প্রমাণভিত্তিক নীতি নির্ধারণের কোঅর্ডিনেটেড ইকোসিস্টেম প্ল্যাটফর্ম হয়ে ওঠার যে দীর্ঘমেয়াদি ভাবনা এই কেন্দ্রের রয়েছে, তা সদর্থকভাবে বিকশিত ভারত ২০৪৭ হয়ে ওঠার দিকে ভারতের প্রগতির গতি বাড়িয়ে দেবে।”

এই কেন্দ্রের প্রস্তাব অনুযায়ী, আটটা উদীয়মান সেক্টরের উপর বিশেষ নজর দেওয়া হবে। সেগুলো হল পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি, অত্যাধুনিক সেল রসায়ন ও ব্যাটারি স্টোরেজ, বৈদ্যুতিক যানবাহন, পরিবেশবান্ধব হাইড্রোজেন, সেমিকন্ডাকটর, বিকার্বনীকরণ, স্মার্ট পরিকাঠামো এবং ডেটা সেন্টারের পরিকাঠামো, যা ভারতের অর্থনৈতিক ভবিষ্যতের মূল চালিকাশক্তি হয়ে উঠছে। ২০৩০ সালের মধ্যে এই আটটা উদীয়মান সেক্টর ১০০ লক্ষ কোটি টাকার মেশি পুঁজি লগ্নি টেনে আনবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই কেন্দ্র এই বিপুল লগ্নি সম্ভব করার লক্ষ্যে কাজ করবে।

এই উপলক্ষে চাল্লা শ্রীনিবাসুলু শেঠি, চেয়ারম্যান, স্টেট ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া, বললেন “আগামী কয়েক দশকে ভারতের বৃদ্ধিকে নিয়ন্ত্রণ করবে উদ্ভাবন, সুস্থায়িতা এবং অত্যাধুনিক নির্মাণ। CHAKRA-র মাধ্যমে এসবিআই উদীয়মান সেক্টরগুলোকে বোঝার প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষমতা জোরদার করছে, বিশেষভাবে তৈরি আর্থিক সমাধান ডিজাইন করছে এবং দেশের উন্নয়নের যাত্রায় সদর্থক অবদানকারী প্রকল্পগুলো সম্ভব করতে তুলছে যে ইকোসিস্টেম, তার সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধছে। নতুন যুগের প্রযুক্তি ও ক্লাইমেট ফাইন্যান্সে এসবিআইয়ের নেতৃত্ব আরও একবার প্রমাণ করল সেন্টার অফ এক্সেলেন্স, যা আন্তর্জাতিক ভ্যালু চেনে ভারতের সমন্বয় আরও উন্নত করল, এবং বিকশিত ভারতের দিকে ভারতের অগ্রগতির গতি বাড়িয়ে দিল।”

CHAKRA শ্বেতপত্র, সেক্টর রিপোর্ট, নলেজ সিরিজ, ইন্ডাস্ট্রি রাউন্ড টেবিল ও পলিসি ডায়লগের মধ্যে দিয়ে বোধগম্য পরিণামে পৌঁছনোর রাস্তা তৈরি করবে। ফলে ক্লায়েন্টরা, লগ্নিকারীরা এবং নীতি নির্ধারকরা অবগত হয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন। এই কেন্দ্র ডেভেলপমেন্ট ফাইন্যান্স প্রতিষ্ঠান, বহুমুখী এজেন্সি, ব্যাংক, এনবিএফসির, শিল্প সংগঠন, কর্পোরেট, স্টার্ট-আপ, বিদ্যায়তনিক লোকজন এবং পলিসি থিংক-ট্যাংকগুলোর সঙ্গে সুসংগঠিত আদানপ্রদানের সুযোগ করে দেবে। স্টেট ব্যাংক অফ ইন্ডিয়ার লক্ষ্য হল, CHAKRA-র মাধ্যমে জোরালো সক্ষমতা তৈরি করা, উদ্ভাবনের উপর জোর দিয়ে উদ্যোগ গড়ে তোলা এবং ভারতের সুস্থায়ী ও প্রযুক্তিভিত্তিক ভবিষ্যৎকে চালনা করছে এমন সেক্টরগুলোর দিকে পুঁজির গমনে উন্নতি ঘটানো। স্টেট ব্যাংক অ্যাকাডেমিতে এমএসএমই-গুলোর জন্য যে উৎকর্ষ কেন্দ্র আগে তৈরি করা হয়েছিল, এই উদ্যোগ ব্যাংকের সেই উদ্যোগের উপরেই আরও একটা ইট গাঁথল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *