রাজ্য ব্যাপী লাগাতার কর্মবিরতির পথে আশা কর্মীরা

রাজ্য ব্যাপী লাগাতার কর্মবিরতির পথে আশা কর্মীরা

সেখ রিয়াজুদ্দিন বীরভূম
ন্যূনতম ১৫ হাজার টাকা মাসিক ভাতা। কর্মরত অবস্থায় মৃত্যু হলে পরিবারের জন্য ৫ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ এরূপ ১১ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে পশ্চিম বঙ্গ আশা কর্মী ইউনিয়নের পক্ষ থেকে লাগাতার বিক্ষোভ প্রদর্শন, বিভিন্ন স্তরে ডেপুটেশন প্রদান কর্মসূচী অব্যাহত। এতদসত্ত্বেও প্রশাসনিক ভাবে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় লাগাতার কর্মবিরতির ডাক দেয়। সেই প্রেক্ষিতে ২৩ শে ডিসেম্বর থেকে লাগাতার কর্মবিরতির কর্মসূচি ঘোষণা করা হয় পশ্চিম বঙ্গ আশা কর্মী ইউনিয়নের পক্ষ থেকে। আন্দোলন জোরদার করতে ২৪ শে ডিসেম্বর বুধবার জেলার বিভিন্ন ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্র,বিডিও অফিস প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ প্রদর্শন ও ডেপুটেশন প্রদান করা হয়। সেরূপ রাজনগর ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্র থেকে একটি সুসজ্জিত মিছিল বের করে রাজনগর বিডিও অফিসের সামনে এসে দীর্ঘক্ষণ বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। আশা কর্মীদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ, সরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবার মেরুদণ্ড হয়ে কাজ করলেও তাঁরা উপযুক্ত পারিশ্রমিক ও সামাজিক নিরাপত্তা থেকে বঞ্চিত। এদিন আন্দোলনকারীরা তাঁদের ১১ দফা দাবি সম্বলিত কথা স্পষ্টভাবে ব্যাক্ত করেন। তাঁদের দাবি সমূহের মধ্যে রয়েছে যে –
বর্তমান দুর্মূল্যের বাজারে সংসার চালাতে মাসিক ভাতা বাড়িয়ে ন্যূনতম ১৫ হাজার টাকা করতে হবে।
কর্মরত অবস্থায় কোনো আশা কর্মীর মৃত্যু হলে তাঁর পরিবারকে এককালীন ৫ লক্ষ টাকা আর্থিক সহায়তা দিতে হবে।
গত কয়েক মাসের বকেয়া থাকা উৎসাহ ভাতা দ্রুত প্রদান করতে হবে। মোবাইল কেনার ওপর কোনও রকম শর্ত চাপানো চলবে না। স্বাস্থ্যকর্মীর মর্যাদা প্রদান ও কাজের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা এরূপ ১১ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে আন্দোলনের পথে নেমেছে আশা কর্মীরা।
তাঁদের আরও বক্তব্য যে , রোদ-ঝড়-বৃষ্টি উপেক্ষা করে গ্রামের মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্য পরিষেবা পৌঁছে দিলেও সরকার তাঁদের দাবিগুলি কর্ণপাত করছে না।
আন্দোলনকারীদের মধ্যে এক আশা কর্মী জানান, “আমরা দিনরাত এক করে কাজ করি, অথচ আমাদের প্রাপ্য ভাতাটুকুও ঠিকমতো দেওয়া হয় না। ভাতার টাকা মাসের পর মাস বকেয়া পড়ে থাকছে। যতক্ষণ না সরকার আমাদের দাবি পূরণের লিখিত আশ্বাস দিচ্ছে, ততক্ষণ আমাদের এই কর্মবিরতি অব্যাহত থাকবে। অনুরূপ দাবিতে ময়ূরেশ্বর এক নম্বর ব্লক অফিসেও বিক্ষোভ প্রদর্শন এবং ডেপুটেশন প্রদান করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *