রাইপুরে আশা কর্মীদের বিক্ষোভ

সাধন কুমার মন্ডল,

আশা কর্মী ইউনিয়নের পক্ষ থেকে ২৩ শে ডিসেম্বর থেকে তাদের মাসিক ন্যূনতম ১৫ হাজার টাকা বেতন প্রদান, উৎসাহ ভাতা সহ সমস্ত বকেয়া প্রদান, কর্মরত অবস্থায় কোন কর্মী মারা গেলে ৫লক্ষ টাকা প্রদান সহ ৮ দফা দাবিতে তাদের এই কর্মবিরতি চলছে জেলায় জেলায়। পিছিয়ে নেই জঙ্গলমহলের রাইপুর ব্লকেও। আজ রাইপুর ব্লকের দেড় শতাধিক আশা কর্মী তাদের হাতে লেখার ফেস্টুন নিয়ে রাইপুর গ্রামীন হাসপাতাল থেকে মিছিল শুরু করে রাইপুর সবুজ বাজারে এসে শেষ করেন সেখানে তারা বিক্ষোভ জানান। রাইপুর স্টেট ব্যাংকের সামনে তারা সংবাদ মাধ্যমের কাছে তাদের দাবি গুলি তুলে ধরেন। আশা কর্মী তথা সংগঠনের নেত্রী শিখা চক্রবর্তী অপর্ণা গাঙ্গুলীরা বলেন আমাদের এই দাবিগুলি অবিলম্বে সরকারকে পূরণ করতে হবে তা না হলে আমরা কাজে ফিরব না । আশা কর্মী শেফালী সাহ ু মালতি দুলে সোনালী বন্দ্যোপাধ্যায় মন্দিরা টুডু শোভা কামিল্যা চম্পা করন রা বলেন। বর্তমান দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির যুগে আমাদের এই পয়সায় সংসার চলে না তাছাড়া আমরা আশা কর্মী হলেও আমাদের দিয়ে সমস্ত রকম কাজ করানো হয়। অথচ আমাদের অত্যন্ত অল্প অবিলম্বে আমাদের মাসিক ভাতা ১৫০০০ টাকা করতে হবে। উৎসাহ ভাতা বিভিন্ন সময়ে না দিয়ে একসঙ্গে দেওয়ার দাবিও জানান তারা।
সারা রাজ্যের আশা কর্মীরা তাদের মাসিক ভাতা বৃদ্ধি সহ কয়েক দফা দাবিতে আন্দোলনে সামিল হয়েছেন। আশা কর্মী শিখা চক্রবর্তী মালতি দুলে রা বলেন আমরা মাসে ৫২৫০ টাকা ভাতা পাই অথচ আমাদের দিয়ে স্বাস্থ্য পরিষেবার নানান কাজ করানো হয়। শিশু ও প্রসূতি মা থেকে শুরু করে যক্ষা রোগীদের ওষুধ বিতরণ ও খাওয়ানো প্রস্তুতি মায়েদের হাসপাতালে পাঠানো সহ বিভিন্ন বিষয়ে খাতা পত্র তৈরি করা ছাড়াও এক একজন আশা কর্মীর দায়িত্বে প্রায় ১২০০ থেকে ১৫০০ পরিবার থাকেন। তাদের স্বাস্থ্য পরিষেবার সমস্ত রকম খোঁজ খবর রাখতে হয় অথচ আমরা মাসের শেষে ভাতা পাই মাত্র পাঁচ হাজার পাঁচ হাজার দুইশত পঞ্চাশ টাকা যা বর্তমান দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির বাজারে একজনের সংসার চালানো খুবই কষ্টকর আমাদের কর্ম বিরতিতে শিশু প্রসূতি মা রা পরিষেবা পাবেন না জেনেও আমরা বাধ্য হয়েছি পথে নামতে ও কর্ম বিরতির ডাক দিতে আপনারাই বলুন এই ভাতার কিভাবে সংসার চালানো সম্ভব? তাই অবিলম্বে আমাদের মাসিক ভাতা পনেরো হাজার টাকা করার দাবি জানিয়েছি আমরা এই দাবিগুলি দীর্ঘদিন ধরে পরে আসছি স্বাস্থ্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছেও জানিয়েছি মুখ্যমন্ত্রীর কাছেও আমাদের দাবি জানানো হয়েছে কিন্তু কোন সুরাহা হয়নি তাই বাধ্য হয়ে আমরা পথে নেমেছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *