‘৬০ বছর বয়স অবধি চাকরি করতে পারবেন শিক্ষামিত্ররা’, জানালো হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ
মোল্লা জসিমউদ্দিন ,
শুক্রবার একাধারে সুপ্রিম কোর্ট যখন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগে ২০৩২ জনের আইনী জটিলতা কাটিয়ে দিল।ঠিক তেমনি এদিন কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ শিক্ষামিত্রদের বড়সড় স্বস্তি দিল।শিক্ষামিত্রেরাও ৬০ বছর বয়স পর্যন্ত চাকরি করতে পারবেন। রাজ্যের আবেদন খারিজ করে জানাল কলকাতা হাইকোর্ট। এদিন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি রাজাশেখর মান্থা এবং বিচারপতি অজয়কুমার গুপ্তের ডিভিশন বেঞ্চ জানায়, -‘ সাধারণ শিক্ষকদের মতো শিক্ষামিত্রদেরও ৬০ বছর বয়স পর্যন্ত কাজ করার অধিকার রয়েছে। সিঙ্গল বেঞ্চ ওই মর্মে যে রায় দিয়েছিল, তাই-ই বহাল থাকবে’। ২০২৩ সালে ২৬ এপ্রিল কলকাতা হাইকোর্টের তৎকালীন বিচারপতি রবীন্দ্রনাথ সামন্তর নির্দেশ বহাল রাখলেন বিচারপতি রাজাশেখর মান্থার ডিভিশন বেঞ্চ।যা খুবই তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। শুধু তাই নয়, ডিভিশন বেঞ্চের এই রায়ে শিক্ষামিত্রদের ৬০ বছর বয়স পর্যন্ত কাজ করার ক্ষেত্রে কোনও সমস্যা থাকল না বলেই মনে করা হচ্ছে। গত ২০২৩ সালের ২৬ এপ্রিল এই ইস্যুতে গুরত্বপূর্ণ রায়দান করেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি রবীন্দ্রনাথ সামন্তের সিঙ্গেল বেঞ্চ।বকেয়া বেতন মিটিয়ে সবাইকে কাজে ফেরানোর নির্দেশ দেয় সিঙ্গেল বেঞ্চ।২০০৪ সালে সর্বশিক্ষা অভিযানের আওতায় শিক্ষামিত্র নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয়।পিছিয়ে পড়া, স্কুলছুট ছাত্রছাত্রীদের পড়ানোর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল শিক্ষামিত্রদের। মাসিক ২৪০০ টাকা করে ভাতা পেতেন শিক্ষামিত্ররা। ২০১৩ সাল থেকে শিক্ষামিত্রদের পদ পরিবর্তন করে সরকার তাঁদের ‘স্বেচ্ছাসেবক’ করে দেয়।এমনকি ২০১৪-র এপ্রিল মাস থেকে শিক্ষামিত্রদের ভাতা বন্ধ করে দেয় রাজ্য সরকার। এই ইস্যুতে ক্রমশ চাপ বাড়তে শুরু করে। এমনকি রাজ্য সরকারের জারি করা নির্দেশিকায় ৬০ বছরের আগেই চাকরি থেকে অবসরের কথাও জানিয়ে দেওয়া হয়। আর এহেন সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে দায়ের হয় মামলা।কেন শিক্ষামিত্ররা ৬০ বছর বয়স পর্যন্ত কাজ করতে পারবে না সে বিষয়ে দাবি জানিয়েই এই সংক্রান্ত মামলা হয়। । দীর্ঘ সময় ধরে এই মামলার শুনানি হয়। প্রথমে সিঙ্গল বেঞ্চের নির্দেশ এরপর তা চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চেও মামলা হয়। বিচারপতি রাজাশেখর মান্থার ডিভিশন বেঞ্চে এই সংক্রান্ত মামলার শুনানি হয়। শুনানি শেষে এই বিষয়ে কলকাতা হাইকোর্টের স্পষ্ট নির্দেশ -‘৬০ বছর বয়স পর্যন্ত কাজ করার অধিকার আছে শিক্ষামিত্রদের’। এতে স্বস্তি এলো এইসব পরিবারগুলিতে।