পিতৃত্বের সুরে শুরু ‘বৃষভা’: মোহনলালের ছবির আত্মা হয়ে উঠল ‘আপ্পা’
পারিজাত মোল্লা
একটি ছবির যাত্রা সবসময় পোস্টার বা টিজার দিয়ে শুরু হয় না। কখনও কখনও সেই যাত্রা শুরু হয় একফোঁটা আবেগ দিয়ে, একটুকরো সুর দিয়ে—যা সরাসরি হৃদয়ে এসে লাগে। ঠিক তেমনই এক আবেগঘন সূচনার সাক্ষী হল মোহনলাল (Mohanlal, actor mohanlal) অভিনীত বহুল প্রতীক্ষিত ছবি ‘বৃষভা’। ছবির প্রথম গান ‘আপ্পা’ প্রকাশ করে নির্মাতারা জানিয়ে দিলেন, এই সিনেমার প্রাণ লুকিয়ে আছে বাবা ও ছেলের নিঃশব্দ কিন্তু অমোঘ বন্ধনে।
‘বৃষভা’-র প্রচারযাত্রার প্রথম ধাপ হিসেবেই মুক্তি পেয়েছে ‘আপ্পা’। নির্মাতাদের ভাষায়, এই গান শুধুই একটি মিউজিক ট্র্যাক নয়—এটাই ছবির আত্মা। সময়ের ঊর্ধ্বে থাকা এক সম্পর্ক, পিতা ও পুত্রের অটুট ভালোবাসা, দায়িত্ব, নীরব ত্যাগ আর গভীর অনুভব—সবকিছুর সারাংশ ধরা পড়েছে এই সুরে। ছবির আবেগের মেরুদণ্ড যে এই সম্পর্কই, ‘আপ্পা’ তা প্রথম মুহূর্তেই অনুভব করিয়ে দেয়।
সঙ্গীত পরিচালনায় রয়েছেন স্যাম সিএস। তাঁর সুরে প্রাণ দিয়েছেন দুই প্রজন্মের কণ্ঠ—হিন্দি, কন্নড় ও তেলুগু সংস্করণে বিজয় প্রকাশ এবং মালয়ালমে মধু বালকৃষ্ণন। ভাষা আলাদা হলেও অনুভূতির গভীরতা এক। গানটির কথা লিখেছেন চার ভাষার চারজন গীতিকার—মালয়ালমে বিনায়ক শশিকুমার, তেলুগুতে কল্যাণ চক্রবর্তী ত্রিপুরনেনি, হিন্দিতে কার্তিক কুশ এবং কন্নড়ে নাগার্জুন শর্মা। প্রত্যেকে নিজের সাংস্কৃতিক আবহ বজায় রেখেও একই আবেগকে ছুঁয়ে গেছেন, যেন চারটি ভাষা মিলিয়ে একটাই হৃদস্পন্দন।
এই গান বেছে নেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে পরিচালক নন্দ কিশোর বলেন, “আমরা ‘আপ্পা’ দিয়েই ‘বৃষভা’র সঙ্গীতযাত্রা শুরু করতে চেয়েছিলাম, কারণ গোটা ছবিটাই বাবা ও ছেলের গভীর সম্পর্কের উপর দাঁড়িয়ে। এই গানটাই গল্পের হৃদস্পন্দন। দর্শক এখান থেকেই বুঝতে পারবেন, ছবিটি আসলে কী বলতে চায়। স্যাম সিএস এই গানে যে গভীরতা এনেছেন, তার জন্য আমি কৃতজ্ঞ। এটা কেবল শুরু—পরবর্তী সঙ্গীত ও মুহূর্তগুলো আসলে মানুষ ছবির আত্মাকে আরও স্পষ্টভাবে অনুভব করবেন। বাবাদের গল্প প্রায়ই না বলা থেকে যায়। এই গল্পটা শোনা আর অনুভব করা খুব দরকার ছিল।”
সুরকার স্যাম সিএস-এর কথায়, এই গান তাঁর কাছে নিছক সৃষ্টিকর্ম ছিল না, ছিল একান্ত ব্যক্তিগত অনুভব। তিনি বলেন, “নন্দ যখন ‘বৃষভা’য় বাবা-ছেলের সম্পর্কের কথা বললেন, সেটা সঙ্গে সঙ্গেই আমার ভেতরে কোথাও না কোথাও ছুঁয়ে গেল। ‘আপ্পা’ তৈরি করা মানে শুধু সুর দেওয়া নয়, বরং পরিচিত, খুব কাছের এক অনুভূতিকে ছুঁয়ে দেখা। আর যখন সেই আবেগের কেন্দ্রে মোহনলাল স্যার থাকেন, দায়িত্বটা আরও বেড়ে যায়। তাঁর উপস্থিতি নিজেই এক গভীরতা এনে দেয়, যা সুর তৈরির সময়ও অনুভূত হয়। আমরা গানটাকে খুব সৎ রাখার চেষ্টা করেছি, কারণ গল্পটাই সেটা দাবি করে। নন্দের স্পষ্ট ভাবনা আমাকে সঠিক সুর খুঁজে পেতে সাহায্য করেছে। আশা করি, মানুষ ‘আপ্পা’ শুনে বাবা-ছেলের সেই উষ্ণ, সত্যিকারের বন্ধন অনুভব করবেন। এটা আমাদের তৈরি করা জগতের শুধু এক ঝলক।”










