২০২২ সালে ডিএলএড মামলায় ২,০৩২ জন প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট

মোল্লা জসিমউদ্দিন ,

গত বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টে বিপুল চাকরি বাতিলের নির্দেশ ছিল।শুক্রবার সুপ্রিম কোর্ট প্রাথমিক স্কুলে শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে অবশেষে কাটালো আইনী জটিলতা। এদিন এই সংক্রান্ত বড়সড় রায় দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। ২০২২ সালে রাজ্যের প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া চলাকালীন যাঁরা ডিএলএড পাশ করেননি, তাঁরাও চাকরিতে সুযোগ পাবেন বলে জানিয়েছে শীর্ষ আদালত। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি পিএস নরসিমহার ডিভিশন বেঞ্চ এই রায় দিয়েছে।তৎকালীন কলকাতা হাইকোর্টের সিঙ্গেল বেঞ্চের বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের রায় মেনেই নিয়োগ করা যাবে।প্রসঙ্গত, ২০২২ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর প্রাথমিকের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ১১,৭৫৮ পদে শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দেয় পর্ষদ। সেই সময় প্রথম বিজ্ঞপ্তি দিয়ে তারা জানায়, যাঁরা চলতি শিক্ষাবর্ষে ডিএলএডের প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন, তাঁরাও নিয়োগে অংশ নিতে পারবেন। পর্ষদের ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে মামলা দায়ের হয়।২০২২ সালের সেপ্টেম্বর হাইকোর্টের বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় পর্ষদের সিদ্ধান্তকেই মান্যতা দেন। সেসময় বিচারপতির পর্যবেক্ষণ ছিল , -‘২০২০-২২ শিক্ষাবর্ষের প্রার্থীদের কোর্স শুরু হয়েছে ২০২০ সালের জুন মাসে। তাঁদের দু’বছরের কোর্স সম্পূর্ণ হবে ২০২২ সালের জুন মাসে। অর্থাৎ, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২ সালে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি জারির আগেই তাঁদের সকলের চূড়ান্ত সেমিস্টারের পরীক্ষা হয়ে যাবে। তাই ওই শিক্ষাবর্ষের প্রশিক্ষণরত প্রার্থীদের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার অধিকার রয়েছে’। সেসময় বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের ওই নির্দেশ এবং পর্ষদের বিজ্ঞপ্তি খারিজ করে দেয় হাইকোর্টের তৎকালীন বিচারপতি সুব্রত তালুকদার এবং বিচারপতি সুপ্রতিম ভট্টাচার্যের ডিভিশন বেঞ্চ। গত বছর এপ্রিলে রায় ঘোষণা করে ডিভিশন বেঞ্চ জানায়, -‘জাতীয় শিক্ষক শিক্ষণ পর্ষদ (এনসিটিই)-এর নিয়ম অনুযায়ী, শিক্ষক হতে গেলে ন্যূনতম শিক্ষা এবং প্রশিক্ষণ থাকতে হবে। এ ক্ষেত্রে এনসিটিই-র নিয়ম মানা হচ্ছে না। কারণ, খাতায়কলমে ২০২২ সালের জুন মাসে কোর্স সম্পূর্ণ হলেও ওই সময়ের মধ্যে প্রার্থীরা শংসাপত্র পাবেন না। ওই বছর নভেম্বরে শংসাপত্র দেওয়া হবে। ফলে শংসাপত্র ছাড়া তাঁদের যোগ্য বলে বিবেচিত করা করা যায় না’। অন্য দিকে, ডিভিশন বেঞ্চে মামলা চলাকালীন নতুন বিজ্ঞপ্তি দেয় পর্ষদ। সেখানে সম্পূর্ণ প্রশিক্ষণরতদের সুযোগ দেওয়ার কথা বলা হয়। ডিভিশন বেঞ্চের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে যান ওই শিক্ষাবর্ষের ডিএলএড প্রশিক্ষণরতদের একাংশ। সেই মামলারই শুনানি ছিল শুক্রবার। সুপ্রিম কোর্টে খারিজ হয়ে গেল হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের সেই নির্দেশ।এদিন সুপ্রিম কোর্টে মামলাটি ওঠে বিচারপতি পিএস নরসিমহার ডিভিশন বেঞ্চে। মার্চ মাসের প্রথমেই সুপ্রিম কোর্টের শুনানিতে পর্ষদ জানিয়েছিল, -‘নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হওয়ার আগেই প্রার্থীদের নির্দিষ্ট শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকার হাইকোর্টের নির্দেশ তারা মেনে নিচ্ছে’। শুক্রবার মামলায় রায়দানে বলা হল যে, ২০২২ সালে রাজ্যের প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া চলাকালীন যাঁরা ডিএলএড পাশ করেননি, তাঁরাও চাকরিতে সুযোগ পাবেন। এরফলে ২,২৩২টি প্রাথমিক শিক্ষক পদে নিয়োগ সংক্রান্ত জটিলতা কাটলো।

Leave a Reply