সাড়ম্বরে উদযাপিত হলো মনীষা এবং ইমন মাইম সেন্টারের যৌথ উদ্যোগে নেতাজী সুভাষ বসুর জন্মদিবস পালন অনুষ্ঠান

সাড়ম্বরে উদযাপিত হলো মনীষা এবং ইমন মাইম সেন্টারের যৌথ উদ্যোগে নেতাজী সুভাষ বসুর জন্মদিবস পালন অনুষ্ঠান


………………………………………..
ইন্দ্রজিৎ আইচ
………………………………………..

মনীষা ও মছলন্দপুর ইমন মাইম সেন্টার এর যৌথ উদ্যোগে অনুষ্টিত হল নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসুর জন্মদিবসকে কেন্দ্র করে আয়োজিত একটি তিনদিনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এবছর ছিল এই অনুষ্ঠানের ১৮তম বর্ষ। ২৩ জানুয়ারী সকাল ৮টায় মছলন্দপুর থেকে প্রভাতফেরী করে বিশ্বাসহাটি নেতাজী মূর্তি পাদদেশে এসে সকাল ৯টায় জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও নেতাজী মূর্তিতে মাল্যদান ও পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের মাধ্যমে এই দিনটি পালন করা হয়। ২৪ জানুয়ারী রাজবল্লভপুর নেতাজী মঞ্চে সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত হয় অঙ্কন ও নৃত্য প্রতিযোগিতা। ২০০-র বেশি প্রতিযোগী এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। বিকাল ৩টেয় ছিল ক্যুইজ প্রতিযোগিতা। এদিন সান্ধ্যকালীন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের প্রথমে ছিল মনীষা সংস্কৃতিক সংস্থার কবিতা কোলাজ, গীতি আলেখ্য, সংগীত, নৃত্য সহ বিভিন্ন অনুষ্ঠান। তারপর ছিল “প্রয়াণ শতবর্ষে দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাসের জীবন সংগ্রাম চর্চার প্রাসঙ্গিকতা” বিষয়ে বিশেষ আলোচনা। তারপর পরিবেশিত হয় নৃত্যলোক এর নৃত্যানুষ্ঠান, “দেবী চৌধুরানী” । পরিবেশনায় ছিলেন সঞ্চিতা মুখার্জী সেন। এরপর পায়েল দের পরিচালনায় নৃত্যানুষ্ঠান পরিবেশন করে পরিবেশনায়
পায়েল ডান্স অ্যাকাডেমি। এরপর মঞ্চস্থ হয় গোবরডাঙ্গা নাবিক নাট্যম এর নাটক, “খেলা”। এদিনের সর্বশেষ অনুষ্ঠান ছিল ধীরাজ হাওলাদার নির্দেশিত মছলন্দপুর ইমন মাইম সেন্টার-এর মূকাভিনয় “আজকের দ্রৌপদী”। উৎসবের শেষ দিন অর্থাৎ ২৫ জানুয়ারী সকাল সাড়ে ৬ টায় মছলন্দপুর তিন রাস্তার মোড় থেকে প্রায় ৫ কিলোমিটার রোড রেসে শতাধিক প্রতিযোগী অংশগ্রহণ করে। এরপর একে একে অনুষ্ঠিত হয় আবৃত্তি, সংগীত ও বিতর্ক প্রতিযোগিতা। বিকেল ৫ টায় অনুষ্ঠিত হয় পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান। সান্ধ্যকালীন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের প্রথমে ছিল নৃত্য, গীতি আলেখ্য, শ্রুতিনাটক সম্বলিত মনীষা সাংস্কৃতিক সংগঠন এর অনুষ্ঠান। তারপর ছিল সৃজা হাওলাদার-এর পরিচালনায় নৃত্যনীড় এর নৃত্যানুষ্ঠান। এই উৎসবের সর্বশেষ অনুষ্ঠান হিসাবে মঞ্চস্থ হয় জীবন অধিকারী নির্দেশিত মছলন্দপুর ইমন মাইম সেন্টার-এর নতুন নাটক “হারানো প্রাপ্তি”। এই নাটকে সোমা হাওলাদার-এর আলোক প্রক্ষেপণ, জয়ন্ত সাহা-র আবহ এবং ধীরাজ হাওলাদার, অনুপ মল্লিক, সীমা মাহেলী দের অভিনয় সকল দর্শকদের প্রশংসা অর্জন করে। সব মিলিয়ে এই আয়োজন যেমন একটি সফল ও সুন্দর উৎসব হিসাবে পরিগণিত হয়েছে এবং তার পাশাপাশি দিনে দিনে এলাকার ছেলেমেয়েদের তাদের প্রতিভার আত্মপ্রকাশের একটি বিশেষ মঞ্চ হয়ে উঠেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *