‘রোদ্দুর’-এর পরিচালনায় আয়োজিত হল সরস্বতী পুজো-

‘রোদ্দুর’-এর পরিচালনায় আয়োজিত হল সরস্বতী পুজো-

বিধান সরণী সংলগ্ন ভীম ঘোষ বাই লেনের সামাজিক সংগঠন ‘রোদ্দুর’-এর পরিচালনায় আয়োজিত সরস্বতী পুজোর উদ্বোধন ঘটল এক ব্যতিক্রমী মানবিক মুহূর্তে। সম্প্রতি এক অনাথ আশ্রমের আবাসিক কচিকাঁচাদের হাত ধরেই উন্মোচিত হল বিদ্যাদাত্রী দেবীর মাতৃমূর্তি ও মণ্ডপ।

চলতি বছরে ২২ বছরে পদার্পণ করল ‘রোদ্দুর’-এর সরস্বতী আরাধনা। ২০০৪ সালে হাতে গোনা কয়েকজন সদস্যকে সঙ্গে নিয়ে শুরু হয়েছিল এই পথচলা, যা আজ এক সুসংগঠিত সামাজিক প্রয়াসে পরিণত হয়েছে।

উদ্বোধনের দিনে ‘অরফ্যানেজ সোসাইটি’-র ২৮ জন পড়ুয়ার এক শৃঙ্খলাবদ্ধ দল সম্মিলিতভাবে মাতৃমূর্তি উন্মোচন করে। এবছর ‘রোদ্দুর’-এর পুজোর মূল ভাবনা ‘শুরু যেখানে’। শুভজিতের পরিকল্পনায় নির্মিত মণ্ডপ ও প্রতিমার মধ্য দিয়ে তুলে ধরা হয়েছে জীবনচক্রের নিরবচ্ছিন্ন প্রবাহ—
“শেষ বলে কিছু নেই, আছে শুধু ফিরে আসা।”

আজ যে শিশুকন্যার হাতেখড়ি হচ্ছে দেবী সরস্বতীর সামনে, কাল সে কিশোরী, তরুণী হয়ে একদিন নিজেও মা হবে—তার সন্তানও পাবে সেই একই হাতেখড়ি। এই ভাবনাই শিল্পরূপ পেয়েছে এবছরের আয়োজনে।

উদ্বোধনের পর অনাথ আশ্রমের কয়েকজন আবাসিক পড়ুয়া সাংবাদিকদের জানায়,

“মায়ের মূর্তির দিকে তাকিয়ে মনে মনে বলেছি—ভালো করে পড়াশোনা শেষ করে যেন একটা ভালো চাকরি পাই।”

মাতৃমূর্তি ও মণ্ডপ উদ্বোধনের পর ‘রোদ্দুর’-এর সাধারণ সম্পাদক সৌরভ ঢাঘে বলেন,

“সংগঠনের ১৮৬ জন সদস্যের আগ্রহ, ঐকান্তিক প্রয়াস ও সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফসলই এবছরের মাতৃ আরাধনা।”

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মাননীয়া পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মন্ত্রী শ্রীমতী শশী পাঁজা, ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের সম্মানীয় কাউন্সিলর শ্রী মোহন কুমার গুপ্ত, জনপ্রিয় বাংলা ব্যান্ড ক্যাকটাস-এর অভিজিৎ বর্মন ‘পটা’, সহ আরও বিশিষ্ট অতিথিবর্গ।

স্বল্প মূলধনেও নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি ও ভাবনার অভিনবত্ব দিয়ে যে সমাজের নজর কাড়া যায়—তারই বাস্তব উদাহরণ তৈরি করেছে ‘রোদ্দুর’।

এবছর ‘রোদ্দুর’-এর ভাবনাকে বিশেষ স্বীকৃতি জানিয়েছে সংবাদমাধ্যমও। শুক্লা চতুর্থীর পবিত্র সন্ধ্যায় ভারতের সর্বপ্রাচীন হিন্দি দৈনিক ‘দৈনিক বিশ্বামিত্র’ ‘রোদ্দুর’-এর সরস্বতী পুজোকে ‘সেরা ভাবনা’ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। পাশাপাশি বাংলার অন্যতম দৈনিক ‘আর্থিক লিপি’ এবছরের মাতৃ প্রতিমাকে ‘সেরা প্রতিমা’ হিসেবে চিহ্নিত করে।

২২ জানুয়ারি ২০২৬, সন্ধ্যায় হিন্দু সৎকার সমিতি-র পরিষদের সদস্য সঞ্জয় রায়, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের আবগারি দপ্তরের যুগ্ম আয়ুক্ত অনুপম হালদার এবং বিশিষ্ট সমাজসেবী শুভাশিস রায়-এর উপস্থিতিতে ‘দৈনিক বিশ্বামিত্র’ ও ‘আর্থিক লিপি’-র দুই সাংবাদিক ‘রোদ্দুর’ কর্তৃপক্ষের হাতে স্মারক তুলে দেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *