মানুষ মানুষের জন্য। অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন পুত্রহারা পিতা মাতা।
সাধন মন্ডল বাঁকুড়া:—কিংবদন্তি শিল্পী মান্না দের সেই বিখ্যাত গান “মানুষ মানুষের জন্য” আজ যেন জ্বলন্ত উদাহরণ। এক পিতা তার অসহায় পুত্রের চিকিৎসার জন্য মানুষের কাছে সাহায্যের আবেদন জানিয়েছিলেন সেই আবেদনে সাড়া দিয়ে বিভিন্ন এলাকার মানুষ মাহির চিকিৎসা খরচের জন্য অর্থ তুলে দিয়েছিলেন অসুস্থ মাহির বাবার হাতে কিন্তু অদৃষ্টের লিখন না যায় খন্ডন চিকিৎসার মাঝেই ইহলোকের মায়া ত্যাগ করে অমৃতলোকে পাড়ি দেয় মাহির। তার চিকিৎসার খরচের সাহায্যের কিছুটা অংশ তিনি আরেক অসুস্থ শিশুর মাতার হাতে তুলে দিলেন ।দৃষ্টান্ত স্থাপন বললেও বোধহয় কম বলা হয়! শিশু সন্তানকে হারানোর শোক বুকে নিয়েও আর এক মায়ের অসুস্থ শিশু সন্তানের জীবন রক্ষায় আর্থিক সাহায্য নিয়ে এগিয়ে এলেন সিমলাপালের মহিম মোল্লা ওরফে রাজেশ।
প্রসঙ্গত, সিমলাপালের বাসিন্দা মহিম মোল্লা ওরফে রাজেশের মাহির মোল্লা নামে সাত বয়সী শিশু সন্তান জটিল ও দুরারোগ্য লিভারের অসুখে আক্রান্ত হয়। ওই শিশুর জীবন রক্ষায় প্রয়োজন ছিল ১৮ লক্ষ টাকা। কিন্তু দিন আনা দিন খাওয়া ওই পরিবারের পক্ষে ওই টাকা যোগাড় করা অসম্ভব ছিল। তাই তিনি সর্বস্তরের মানুষের কাছে সাহায্যের আবেদন জানিয়েছিলেন আবার সেই সংবাদ দক্ষিণ বাঁকুড়া দর্পণে সম্প্রচারের পর নানা দিক থেকে অর্থ সাহায্য আসতে থাকে। কিন্তু এরই মাঝে পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে মাহির। অন্যদিকে ছাতনার জমাদার পাড়া, বড়কালি মেলার বাসিন্দা মাম্পি রজকের দ্বিতীয় শ্রেণীতে পড়া মেয়ে পরিমিতা দাস ওরফে পরীর কিডনীর রোগে আক্রান্তের সংবাদ সহ চিকিৎসাজনিত অর্থ সাহায্যের আবেদনও দক্ষিণ বাঁকুড়া দর্পণে সম্প্রচারিত হয়। সেই সংবাদ নজরে আসার পর পুত্র শোকে প্রায় পাথর হয়ে যাওয়া সিমলাপালের মহিম মোল্লা ছেলের চিকিৎসার খরচ হিসেবে সংগৃহীত টাকার একটা বড় অংশ ছাতনার বাড়িতে গিয়ে পরীর মায়ের হাতে তুলে দিলেন!
এদিন মহিম মোল্লার সঙ্গে ছিলেন সিমলাপালের বাসিন্দা জয় দত্ত, শান্তনু দাস, জসির মোল্লা সহ অন্যান্যরা। শান্তনু দাস, জসির মোল্লারা বলেন,
মহিম মোল্লার প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে পরীর মা মাম্পি রজক বলেন আপনাদের কৃতজ্ঞতা জানানোর কোন ভাষা নেই আপনারা আমার কাছে ভগবানের দূত হিসেবে এসেছেন। আশীর্বাদ করুন আমার মেয়ে যেন তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে ওঠে।।










