বারুইপুরে শুভেন্দু অধিকারীর প্রতিবাদ কর্মসূচীতে শর্তসাপেক্ষে ‘সায়’ দিল হাইকোর্ট
মোল্লা জসিমউদ্দিন,
বুধবার শর্তসাপেক্ষে বারুইপুর পুলিশ সুপারের দফতরের বাইরে বিজেপির প্রতিবাদ এবং বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অনুমতি দিল কলকাতা হাইকোর্ট। আজ অর্থাৎ বৃহস্পতিবার দুপুর ২ টা থেকে বিকেল ৫ টা পর্যন্ত কর্মসূচির অনুমতি দেওয়া হয়েছে। একহাজার কর্মী সমর্থক নিয়ে বিক্ষোভ কর্মসূচির অনুমতি আদালতের।এই বিক্ষোভ কর্মসূচিতে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী সহ রাজ্য বিজেপির একাধিক শীর্ষ নেতৃত্ব উপস্থিউত থাকতে পারে বলে জানা যাচ্ছে। সম্প্রতি বারুইপুরে আক্রান্ত হতে হয় শুভেন্দু অধিকারীকে । সভা করতে গেলে তৃণমূলের তীব্র ক্ষোভের মুখে পড়ে। দেখানো হয় কালো পতাকা। পাল্টা স্লোগান বিক্ষোভ দেখান বিজেপি নেতা-কর্মীরাও। যা ঘিরে একেবারে উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়।দাবি, সেই সময় বিরোধী দলনেতার গাড়ির উপর একের পর এক লাঠির আঘাত এসে পড়ে। আক্রান্ত হতে হয় তাঁকে। এমনকী একাধিক বিজেপি বিধায়কও এই ঘটনায় আক্রান্ত হন বলে অভিযোগ । ঘটনার প্রতিবাদে বারুইপুর পুলিশ সুপারের দফতর ঘেরাও অভিযানের ডাক দেন নন্দীগ্রামের বিধায়ক। যদিও সেই অভিযানে অনুমতি দেয় নি পুলিশ।আর এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় বিজেপি। বুধবার এই সংক্রান্ত মামলার শুনানি হয় কলকাতা হাইকোর্টে। শুনানিতে একাধিক প্রশ্ন ওঠে। বিজেপির তরফে এদিন সওয়ালে জানায়, -‘ আমাদের কর্মসূচিতে আমরাই আক্রান্ত হয়েছি। আমাদের গাড়ির ওপর হামলা হয়েছে। সম্পূর্ণ ভাবে পুলিশ নিষ্ক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে।আর সেই কারণেই বিজেপিকে আক্রান্ত হতে হয়েছে’। এমনকী বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীও আক্রান্ত হয়েছেন বলেও এদিন সওয়ালে জানান বিজেপির আইনজীবীরা। পাল্টা রাজ্যের আইনজীবীরা জানান, -‘প্রায় ৪৫০ জন পুলিশ ছিলেন। উচ্চপদস্থ কর্তারা ছিলেন। শুভেন্দু অধিকারীর শরীরে ছোঁয়া পর্যন্ত লাগেনি সেদিন’। এই সংক্রান্ত ভিডিও ফুটেজ খতিয়ে দেখা হয়েছে বলেও রাজ্যের হয়ে সওয়াল আইনজীবীর।এদিন শুনানিতে কলকাতা হাইকোর্ট বারুইপুরে কি ঘটেছে সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য নেন। শুধু তাই নয়, ভিডিও ফুটেজ পুলিশকে জমা দেওয়ারও নির্দেশ দেন বিচারপতি । দীর্ঘ শুনানি শেষে বারুইপুর পুলিশ সুপারের দফতরের বাইরে বিজেপির প্রতিবাদ এবং বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অনুমতি দেয় কলকাতা হাইকোর্ট।তবে বৃহস্পতিবার দুপুর ২ টা থেকে বিকে ৫ টা পর্যন্ত কর্মসূচির অনুমতি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ২৫ টি মাইক ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। একই সঙ্গে হাসপাতাল এলাকা বাদ দিয়ে ৫০০ মিটার এলাকায় মাইক ব্যবহার করা যাবে বলেও এদিন নির্দেশে জানিয়েছে রাজ্যের শীর্ষ আদালত।