উত্তর ২৪ পরগণা ও দক্ষিণ ২৪ পরগণায় জাল গুডনাইট LV রিফিল বিক্রি করা খুচরো ব্যবসায়ীদের আস্তানায় হানা দিল পশ্চিমবঙ্গ পুলিস

উত্তর ২৪ পরগণা ও দক্ষিণ ২৪ পরগণায় জাল গুডনাইট LV রিফিল বিক্রি করা খুচরো ব্যবসায়ীদের আস্তানায় হানা দিল পশ্চিমবঙ্গ পুলিস

কলকাতা, জানুয়ারি ৫: ভারতের অগ্রগণ্য ঘরোয়া পতঙ্গনাশক ব্র্যান্ড নির্মাতা গুডনাইট নির্মাতা গোদরেজ কনজিউমার প্রোডাক্টস লিমিটেড (GCPL)-এর সঙ্গে মিলে পশ্চিমবঙ্গ পুলিস, উত্তর ২৪ পরগণা ও দক্ষিণ ২৪ পরগণা জুড়ে একাধিক জায়গায় হানা দিয়েছে ওই অঞ্চলে জাল গুডনাইট LV রিফিল বিক্রি বন্ধ করতে। GCPL-এর তদন্ত সংস্থার সাহায্যে চালানো এই হানাগুলো বাজারে জাল মশা তাড়ানোর প্রোডাক্ট ছড়িয়ে পড়া আটকানোর দিকে এক জরুরি পদক্ষেপ।

ব্যবস্থা নেওয়ার যোগ্য গোপন তথ্যের ভিত্তিতে স্থানীয় পুলিস ও তদন্তকারী দলগুলো জাল প্রোডাক্ট রাখা আছে বলে সন্দেহ হওয়া একাধিক খুচরো বিক্রির জায়গা ও গুদামে হানা দেয়। এই হানাগুলোর ফলে যথেষ্ট পরিমাণ জাল গুডনাইট তৈরির মাল বাজেয়াপ্ত করা গেছে। এ থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে যে জাল প্রোডাক্ট তৈরি এবং বিতরণ করার সুসংগঠিত কার্যকলাপ চলছিল।

উত্তর ২৪ পরগণা থেকে যে জিনিসগুলো উদ্ধার হয়েছে তার মধ্যে আছে টিটাগড়ের আলি হায়দর রোডের এক রিফিলিং ইউনিট থেকে বিপুল সংখ্যায় উদ্ধার হওয়া জিনিসপত্র। সেখানে পাওয়া গেছে ২,৫৪০ খানা গুডনাইট ফ্ল্যাশ (৯০ মিলিলিটার করে) টুইন-রিফিল প্যাক, ৬০০ ভর্তি বোরল, ১,৮৬০ খানা খালি বোতল, ৬,২০০ লেবেল এবং ৬,৫০০ প্যাকিং বাক্স। উপরন্তু কাছেই টিটাগড়ের এনএস পথের এক গুদাম থেকে উদ্ধার হয়েছে ১,৯৫০ খানা টুইন-রিফিল প্যাক আর খড়দার মীরা স্টোর (সরবরাহকারী) থেকে উদ্ধার হয়েছে ৫০০ খানা প্যাক। এছাড়াও উদ্ধার হওয়া জিনিসগুলোর মধ্যে আছে বেলঘরিয়ার আচার্য স্টোর থেকে উদ্ধার হওয়া ৬৭ খানা টুইন-রিফিল প্যাক এবং পানিহাটীর মা তারা ভাণ্ডার থেকে উদ্ধার হওয়া ১৬৫ টুইন-রিফিল প্যাক, সঙ্গে ওয়ান মেশিম কম্বো প্যাক

দক্ষিণ ২৪ পরগণায় ৫৬৯ খানা টুইন-রিফিল প্যাক উদ্ধার করা হয়েছে মা বাসন্তী ভাণ্ডার, কাকদ্বীপ স্টেশন রোড থেকে। কাকদ্বীপ অঞ্চলের কালী মন্দির রোডের বাসন্তী স্টোর্স থেকে উদ্ধার হয়েছে ২৫৫ পিস (লুজ প্যাক সমেত)

ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS) এবং কপিরাইট আইন, ১৯৫৭ অনুযায়ী ফার্স্ট ইনফর্মেশন রিপোর্ট (FIR) ফাইল করা হয়েছে। এখন কর্তৃপক্ষ এই ইউনিটের সঙ্গে যুক্ত সরবরাহ সংযোগ এবং সরবরাহ নেটওয়ার্কগুলোর সন্ধান করছেন, যাতে পশ্চিমবঙ্গ এবং পার্শ্ববর্তী রাজ্যগুলোতে এই বিপজ্জনক প্রোডাক্টগুলোর আরও ছড়িয়ে পড়া আটকানো যায়। এই যে ব্যবস্থা নেওয়া হল তা যারা জাল জিনিসের কারবার করছে তাদের প্রতি সতর্কবাণী এবং ক্রেতাদের বিশ্বাস রক্ষা করার প্রতি GCPL-এর দায়বদ্ধতার প্রতিফলন।

এ বিষয়ে বলতে গিয়ে অশ্বিন মূর্তি, সিএমও, গোদরেজ কনজিউমার প্রোডাক্টস লিমিটেড, বললেন “গোটা দেশ জুড়ে জাল প্রোডাক্ট ছড়িয়ে পড়া FMCG শিল্পের জন্যে বড় দুশ্চিন্তার বিষয়। জাল বা একইরকম দেখতে প্রোডাক্ট কেবল বেআইনি নয়, মানুষের স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকর এবং বিপজ্জনকও বটে।  GCPL তার আয়ের একটা বড় অংশ লগ্নি করে এমন উদ্ভাবনীমূলক প্রোডাক্ট তৈরি করতে, যা ক্রেতাদের উন্নততর পরিষেবা দিয়ে চলেছে। বাড়ির পতঙ্গনাশক বিভাগে বাজারের এক নম্বর প্রোডাক্ট গুডনাইট তেমনই একটা উদাহরণ। আমরা নিয়মিত আমাদের প্রোডাক্টগুলোর গুণমান পরীক্ষা করি আমাদের সরবরাহ নেটওয়ার্ক, স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এবং ক্রেতাদের যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে। পশ্চিমবঙ্গে পুলিস কর্তৃপক্ষের সঙ্গে মিলে এই উদ্যোগ রাজ্যে নকল গুডনাইট প্রোডাক্ট বিক্রি করা স্থানীয় খুচরো বিক্রেতা, নির্মাতা এবং সরবরাহকারীদের শাস্তি দেবে।”
বাজারে যেহেতু জাল গুডনাইট প্রোডাক্ট আছে, ক্রেতাদের সতর্ক হওয়া উচিত এবং শুধুমাত্র আসল রসিদ নিয়েই কেনাকাটা করা উচিত। যদি কেউ কোনো নকল গুডনাইট প্রোডাক্ট আছে বলে সন্দেহ করেন বা কোনো পাইকারী/খুচরো বিক্রেতাকে তার কারবার করতে দেখেন, তিনি GCPL-কে তা জানাতে পারেন care@godrejcp.com-এ মেল করে অথবা ১৮০০-২৬৬-০০০৭ নম্বরে কল করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *