আরজিকর মামলায় শিয়ালদহ আদালতে অগ্রগতি রিপোর্ট পেশ করলো সিবিআই 

মোল্লা জসিমউদ্দিন

সোমবার শিয়ালদহ আদালতে আরজিকর হাসপাতালে ধর্ষণ – খুন মামলার অগ্রগতি রিপোর্ট পেশ করলো কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই। আরজি করে তরুণী চিকিত্‍সককে খুন ও ধর্ষণ মামলার তদন্ত কতদূর এগিয়েছে? কীভাবেই-বা তদন্ত হচ্ছে? শিয়ালহ আদালতে এবার স্ট্যাস্টাস রিপোর্ট জমা দিল সিবিআই।জানা গেছে দাখিল রিপোর্টে উল্লেখ, ‘এই মামলায় দ্রুত সাপ্লিমেন্টারি ফাইনাল রিপোর্ট জমা দেওয়া হবে। যদি কোনও সাক্ষ্য প্রমাণ লোপাট হয়ে থাকে, তারও তদন্ত হবে এবং ফাইনাল সাপ্লিমেন্টারি  রিপোর্ট তা দেওয়া হবে’।আগেকার শুনানি পর্বে  নির্দেশ মেনে সোমবার শিয়ালদহ আদালতে নির্ভয়া ধর্ষণ-খুনে তদন্তের অগ্রগতির রিপোর্ট পেশ করল সিবিআই। সেখানেই জানানো হয়েছে, -‘এখনই ফেরত দেওয়া হবে না টালা থানার ওসি অভিজিৎ মণ্ডলের সিম কার্ড’। ওই সিমটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেই দাবি তদন্তকারীদের। এদিকে এদিন শিয়ালদহ আদালতে নির্ভয়ার আইনজীবী জানালেন, সিবিআই তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করছে না। এর আগে তদন্তের অগ্রগতি জানতে পারছেন না বলে জানিয়েছেন নির্যাতিতার বাবা। আদালতে কেঁদে ফেলেন নির্ভয়ার মা।সোমবার দুপুরে শিয়ালদহ আদালতে মামলার অগ্রগতির রিপোর্ট পেশ করে সিবিআই জানিয়েছে, -‘দ্রুত সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিট জমা দেওয়া হবে। যদি কোনও সাক্ষ্যপ্রমাণ লোপাট হয়ে থাকে তা তদন্ত করে সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিটে দেওয়া হবে। এখনই ফেরত দেওয়া হবে না টালা থানার ওসি অভিজিৎ মণ্ডলের সিম কার্ড’। নির্ভয়ার পরিবারের তরফে বারবার দাবি করা হচ্ছে, তাঁরা অন্ধকারে। সিবিআই সে প্রসঙ্গে এদিন দাবি করে, -‘পরিবারকে তদন্ত নিয়ে অন্ধকারে রাখা হয়নি। একাধিকবার পরিবারকে সমস্ত তথ্য দেওয়া হয়েছে। পরিবার বা পরিবারের আইনজীবী ট্রায়ালের সময়েও ছিলেন’।এদিন আদালতে নির্ভয়ার বাবা বলেন, “৭মাস ধরে সিবিআই তদন্ত চলছে। কলকাতা পুলিশ ৫ দিন তদন্ত করছে। সেই সময় আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল। কিন্তু সিবিআইয়ের লোক কোথায় আছে আমরা কিছুই জানি না। আজ পর্যন্ত ৭ মাসে কী তদন্ত হয়েছে সেটাও জানি না। এমনকী মামলার শুরুর দিকে আমাদের জানানোই হয়নি।। গত ১০ই নভেম্বর তদন্তকারী অধিকারিক সমন দিতে এসেছিলেন। সই করে আমরা সেই সমন নিয়েছি। কিন্তু এই সংক্রান্ত কোনও রিপোর্ট আমাদের জানানো হয়নি। ন।”নির্ভয়ার আইনজীবী এদিন বলেন, “একটা গ্যাপ ছিল। কোনও যোগাযোগ হয়নি। তবে সিবিআই স্টেটাস রিপোর্ট দিয়েছে তাতে আমরা খুশি।” এদিন বিচারক নির্ভয়ার বাবাকে বলেন, “আপনারা নিজেদের ব্রাত্য ভাববেন না।”  বিচারক  আরও বলেন, কলকাতা পুলিশ এবং সিবিআইয়ের কিছু নিয়ম রয়েছে। তারা একটা নির্দিষ্ট পর্যায়ের পর তথ্য জানায়। আপনারাও জানতে পারবেন। সিবিআই কাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলো? সেই বিষয়ে নাই জানাতে পারেন। ফরেনসিক রিপোর্ট বা অন্য কোনও গুরুত্বপূর্ণ রিপোর্ট জানাতেও বাধ্য নন তাঁরা। এরপরই আদালতে কেঁদে ফেলেন  নির্ভয়ার মা। বিচারক তাঁকে শান্ত হতে বলেন,-‘ যা অভিযোগ রয়েছে তা আইনজীবীর মাধ্যমে আদালতে জানাতে বলেন’। কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে আরজি করে তরুণী চিকিত্‍সক ও খুনের মামলার তদন্ত করেছে সিবিআই। চার্জশিট জমা পড়ে শিয়ালদহ কোর্টে। কিন্তু সেই চার্জশিটের ভিত্তিতে অভিযুক্ত সঞ্জয় রাই-কেই দোষী সাব্যস্ত করে সাজা শুনিয়েছে আদালত, তখন তদন্তের গতিপ্রকৃতিতে সন্তুষ্ট নন নির্যাতিতার পরিবার। শিয়ালদহ আদালতেই দ্বারস্থ হয়েছিলেন তাঁরা। মামলার গত শুনানিতে সোমবারের স্ট্যাস্টাস রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেয় আদালত। গত বছরের ৯ অগাস্ট। সেদিন আরজি কর হাসপাতালের সেমিনার হল থেকে মহিলা চিকিৎসকের দেহ উদ্ধার করা হয়। তাঁকে ধর্ষণ করে খুনের অভিযোগ ওঠে। ঘটনায় সঞ্জয় রাই নামে এক সিভিক ভলান্টিয়ারকে গ্রেফতার করে কলকাতা পুলিস। এরপর হাইকোর্টের নির্দেশে আরজি করে তরুণী চিকিত্‍সকে খুন ও ধর্ষণের তদন্তে নামে সিবিআই। ৭ অক্টোবর শিয়ালদহ কোর্টের প্রথম চার্জশিট জমা দেয় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। অভিয়ুক্ত সেই সঞ্জয়ই।শিয়ালদহ আদালত আসামি সঞ্জয় রাই কে আমৃত্যু কারাবাসের রায় দিয়েছে। 

Leave a Reply