।। কুপনে মিলছে বই! নব প্রজন্মকে বইমুখী করতে হাড়োয়ার বইমেলায় অভিনব উদ্যোগ ।।

।। কুপনে মিলছে বই! নব প্রজন্মকে বইমুখী করতে হাড়োয়ার বইমেলায় অভিনব উদ্যোগ ।।

বর্তমান মোবাইল ইন্টারনেটের যুগে বই ছেড়ে মোবাইল স্ক্রিনে বুঁদ হয়ে বসে থাকে ছাত্র-ছাত্রী শুধু করে ৮ থেকে ৮০ সকল বয়সের মানুষ। ইন্টারনেটের যুগে ফেসবুক থেকে ইউটিউবে স্ক্রলিং করতে করতে কখন যে সময় পেরিয়ে যায় তা বুঝে উঠতে পারেন না অনেকেই। কিন্তু এর ফলেই অজান্তেই যে বই পড়ার মতো একটি সভ্যতার বিনাশ হতে চলেছে তা অনেকের কাছে অধরা। সেই সমস্যার সমাধানে হাড়োয়া পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি আব্দুল খালেক মোল্লার সভাপতিত্বে ও হাড়োয়ার বিশিষ্ট সমাজসেবী ফরিদ জমাদারের সম্পাদনায় এক অভিনব উদ্যোগ দেখা গেল হাড়োয়া বইমেলা ২০২৬ এ। ছাত্র-ছাত্রী থেকে শুরু করে সকল শ্রেণীর মানুষের কাছে বইয়ের প্রতি আগ্রহ বাড়াতে অভিনব উদ্যোগ দেখা গেল বসিরহাটের সুন্দরবনের বিদ্যাধরী নদীর তীরে হাড়োয়া বইমেলায়। ৪র্থ বর্ষে হাড়োয়া বইমেলা যেন এক টুকরো বিদ্যাপীঠ হয়ে উঠল। বইমেলা শুরু হওয়ার আগেই উদ্যোক্তারা বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে কুপন বিক্রি করা হয়েছে। আর সেই কুপন দিয়েই বইমেলায় বই সংগ্রহ করতে পারবেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। মেলা কমিটির সূত্রে জানা গিয়েছে লক্ষ লক্ষ টাকা মূল্যের কুপন বিক্রি হয়েছে। এর মাধ্যমে একদিকে যেমন বই বিক্রি বাড়বে ঠিক তেমনি বই বিক্রেতাদের বই বিক্রি নিয়ে অনেকটা নিশ্চয়তা বাড়বে। বাংলার বিশিষ্ট সঙ্গীত শিল্পী কেশব দের উপস্থিতিতে এই বইমেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। সংগীতশিল্পী কেশব দে বলেন, “এই ধরনের উদ্যোগ কেউ আজ পর্যন্ত নিয়েছে কিনা জানিনা। আমি কলকাতা বুক ফেয়ার সহ প্রচুর মহকুমা ও গ্রামীণ বইমেলা দেখেছি। কিন্তু এই ধরনের উদ্যোগ দেখতে পাইনি। এই উদ্যোগকে আমরা স্বাগত জানাচ্ছি।” বইমেলার অন্যতম উদ্যোক্তা আব্দুল খালেক মোল্লা বলেন, “হাড়োয়া বইমেলায় ৪৫টি স্টল রয়েছে। যার মধ্যে ২৪টি বইয়ের স্টল। এটা একটা আন্তর্জাতিক বইমেলার রূপান্তরিত হয়েছে। যা হাড়োয়ার প্রতিটা পরিবারের মধ্যে ঢুকে যাবে। কারণ এই কুপন সিস্টেম। সেই কুপনগুলি পরিবারের সদস্যরা কিনছেন। বইমেলায় এসে কুপন দেখালেই যেকোনো দোকান থেকে তাদের পছন্দের বই সংগ্রহ করতে পারবেন। প্রায় ২,৫০০ হাজার মানুষ বাড়িতে বসে এই কুপন কেটেছেন।” অপরদিকে মেলা কমিটির সম্পাদক ফরিদ জমাদার বলেন, “টোটাল ফোকাস ওন বুকস্। বই বই আর বই। বই পড়ুন ও বই উপহার দিন। নব প্রজন্ম এখন মোবাইল কেন্দ্রিক জীবন যাপন করছে। তারা বই থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। তাই আমরা কুপন ইস্যু করে মানুষকে পুনরায় বইমুখী করতে এই উদ্যোগ নিয়েছি।” সব মিলিয়ে সুন্দরবন এলাকায় এই বইমেলা যে অন্য মাত্রা দিল তা বলাই বাহুল্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *