আইনী রক্ষাকবচ পেতে অবশেষে ডিভিশন বেঞ্চের দারস্থ অনুব্রত মন্ডল 

মোল্লা জসিমউদ্দিন , ১৪ মার্চ,
আইনী রক্ষাকবচ পেতে অবশেষে কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের দারস্থ অনুব্রত মন্ডল। দ্রুত শুনানি চেয়ে সোমবারই এই মামলার শুনানি চেয়েছিলেন অনুব্রত মন্ডল এর আইনজীবী। তবে ডিভিশন বেঞ্চ এদিন এই মামলার শুনানি চালাইনি।আগামী বুধবার এই মামলার শুনানি রয়েছে বলে জানা গেছে। এদিন কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চে আপিল পিটিশন টি দাখিল করে থাকেন বীরভূমের দাপুটে নেতা অনুব্রত মন্ডলের আইনজীবী। গত শুক্রবার দ কলকাতা হাইকোর্টে আইনী ধাক্কা খেয়েছিলেন বীরভূমের দাপুটে নেতা অনুব্রত মন্ডল ওরফে কেস্ট।ওইদিন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি রাজশেখর মান্থারের এজলাসে গরু পাচার মামলায় অনুব্রত মণ্ডলের রক্ষাকবচের আর্জিটি  খারিজ হয়। গত শুক্রবার কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি রাজাশেখর মান্থার এর  এজলাসে মামলাটি উঠেছিল। ওইদিন কলকাতা হাইকোর্টের তরফে  অনুব্রত মণ্ডলের আইনজীবীকে প্রশ্ন করা হয়েছিল , -‘ যেহেতু অনুব্রত মন্ডল মূল অভিযুক্তই নন, তাহলে গ্রেফতার হওয়ার অনুমান কেন?তদন্তকারী সংস্থা কোনও কারণে সমন পাঠালেই আদালত বারবার ঢাল হতে পারেনা। সিবিআই-এর হাত এভাবে বাধা ঠিক নয়।’ পাশাপাশি কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি রাজশেখর মান্থার এর সিঙ্গেল বেঞ্চের পরামর্শ ছিল , -‘  দরকারে আগাম জামিন চাইতে পারেন অনুব্রত মণ্ডল’। বীরভূমের দাপুটে তৃণমূল নেতা অনুব্রত মন্ডল কে গরু পাচার মামলায় ২৪ এপ্রিল প্রথম নোটিস দেয় সিবিআই। এনামুল হককে গরু পাচার কাণ্ডে সাক্ষী হিসেবে ডাকা হয়। সেসময় হাজিরা এড়িয়ে যান অনুব্রত। অনুব্রতের  আইনজীবী জানিয়েছিলেন , -‘  কিডনি ও শ্বাসকষ্ট জনিত সমস্যায় ভূগছেন অনুব্রত’। অন্য আরেকটা মামলায় ( ভোট পরবর্তী হিংসা)  ২০২২ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত রক্ষাকবচ ছিল অনুব্রতর। এরপর কোনও নোটিস আসেনি। ১৪ ফেব্রুয়ারিতে  তে হঠাত্‍ করেই নিজাম প্যালেস গরু পাচার কাণ্ডে ফের ডেকে পাঠানো হয় অনুব্রতকে। হাজিরা এড়িয়ে যান  অনুব্রত। তাঁর আইনজীবী তথা রাজ্যের প্রাক্তন এজি  কিশোর দত্ত জানান, ‘ গরুপাচার মামলায় তদন্তে সহযোগিতা করতে রাজি তিনি। জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হতে প্রস্তুত। তবে কলকাতায় সিবিআই দফতরে গিয়ে হাজিরা দেওয়া তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়, শারীরিক অসুস্থতার জন্য। বোলপুরে বাড়ির কাছাকাছি কিংবা কাছাকাছি কোথাও ডাকা হোক তাঁকে’।  তারপরও ফের নোটিস। ১৪ মার্চ তাঁর হাজিরা দেওয়ার কথা ছিল।গত  শুনানির শুরুতেই কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি রাজশেখর মান্থার এজলাসে  প্রশ্ন তোলেন, -‘ যেহেতু অনুব্রত মন্ডল মূল অভিযুক্ত নন, তাহলে গ্রেফতার হওয়ার অনুমান কেন? তদন্তকারী সংস্থা কিছু কারণে সমন পাঠালেই কোর্ট বারবার ঢাল হতে পারে না। সিবিআই-এর হাত এভাবে বাধা ঠিক নয়। দরকারে আগাম জামিন চাইতে পারেন’। ওইদিন সিবিআইয়ের পক্ষে ডিজিটাল মিডিয়ায় অনুব্রতের বিভিন্ন উপস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হয় কলকাতা হাইকোর্টে।তারপরই কলকাতা হাইকোর্টের সিঙ্গেল বেঞ্চ অনুব্রত মন্ডল এর আগাম আইনী রক্ষাকবচ পাওয়ার আবেদন টি খারিজ করে থাকে। সোমবার কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চে আপিল পিটিশন দাখিল করা হয়েছে অনুব্রত মন্ডল এর আইনজীবীর তরফে।দ্রুত শুনানি চাওয়া হয়েছিল।আগামী বুধবার এই মামলার শুনানি হতে পারে । অপরদিকে সিবিআইয়ের তরফে কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চে তথ্যসমৃদ্ধ সওয়াল-জবাব চালাবার প্রস্তুতি তুঙ্গে বলে জানা গেছে 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *