কেন এত সচেতনতার অভাব?

জ্যোতি প্রকাশ মুখার্জ্জী

     হাতে দামি স্মার্টফোন নিয়ে আমরা প্রবেশ করছি ডিজিটাল যুগে। মুখে আধুনিকতার বুলি কপচালেও মন পড়ে আছে সেই প্রাক্ ঐতিহাসিক যুগে। বিভিন্ন কাজের মধ্যে দিয়ে শহর বা গ্রাম প্রতিটি এলাকার মানুষ প্রতি মুহূর্তে অসচেতনতার পরিচয় দিয়ে চলেছে। আমাদের প্রতিটি কাজের ফলে পরিবেশ দূষণের সঙ্গে সঙ্গে যে  দৃশ্য দূষণ ঘটে চলেছে সেই ব্যাপারে থাকছেনা নুন্যতম ভ্রূক্ষেপ। জলনিকাশী ড্রেনের মধ্যে ফেলে দেওয়া হচ্ছে প্লাস্টিক। ড্রেনের মুখ বন্ধ হয়ে নোংরা জলে এবং দুর্গন্ধে ভরে উঠছে এলাকা। দিনের শেষে নিজেদের কৃতকর্মের দায় চাপাচ্ছি সরকারের উপর।  কৃতকর্মের ফল ভোগ করতে হচ্ছে এলাকাবাসীদের। এরকমই একটি অসচেতনতার দৃশ্য দেখা গেল গুসকরা পুরসভার ৩ নং ওয়ার্ডের শিব বাগান সংলগ্ন এলাকায় কুনুর নদীর পাড়ে।

          গুসকরার অন্যতম পবিত্র জায়গা শিব বাগান এলাকা। ধার্মিক মানুষের সঙ্গে সঙ্গে বহু সাধারণ মানুষ বিকাল বেলায় সংশ্লিষ্ট এলাকায় ভ্রমণে যায়। মেলবন্ধন সেতু থাকার জন্য নদীর উত্তর পাড়ের ১ নং ও ২ নং এলাকার মানুষ শিব মন্দিরে আসে। তাছাড়া সংক্ষিপ্ত দূরত্বের জন্য ঐ দুটি ওয়ার্ডের বাসিন্দারা ব্যবসায়িক বা অন্যান্য কাজে শিববাগানের পাশের রাস্তা ধরে মূল শহরে আসে। 

          দীর্ঘদিন ধরে দেখা যাচ্ছে শহরের এক শ্রেণির অসচেতন বাসিন্দা বাড়ির অপচনশীল বর্জ্য পদার্থ অর্থাৎ প্লাস্টিক জাতীয় পদার্থগুলো কুনুর নদীর পাড়ে ফেলছে। এমনকি স্হানীয় ব্যবসায়ীরা এবিষয়ে খুব একটা পেছিয়ে নাই। কুনুরের জলে ভাসছে প্লাস্টিক ও শোলার তৈরি সামগ্রী। একে কুনুর নদীর নাব্যতা কম তার উপর এই আবর্জনা মেলবন্ধন সেতুর পশ্চিম মুখে আটকে থেকে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ পথে বাধা সৃষ্টি করছে। হাওয়ায় উড়ে প্লাস্টিক পড়ছে পাশের কৃষি জমিতে। নষ্ট হচ্ছে জমির উর্বরতা শক্তি। মাঝে মাঝে পড়ে থাকা প্লাস্টিক পুড়িয়ে দেওয়ার ফলে বায়ু দূষণ ঘটছে। অথচ কিছুদিন আগেই যেকোনো ধরনের দূষণ রোধের উদ্দেশ্যে  পৌরসভার পক্ষ থেকে প্রতিটি বাড়িতে দেওয়া হয়েছিল আবর্জনা রাখার  জন্য দুটি করে বালতি যার একটিতে রাখা হবে বাড়ির পচনশীল এবং অপরটিতে অপচনশীল বর্জ্য পদার্থ। পুরসভার গাড়ি এসে প্রতিটি বাড়ি থেকে সংগ্রহ করবে সেই আবর্জনা। এতে অন্তত দৃশ্য দূষণের সঙ্গে সঙ্গে পরিবেশ দূষণের হাত থেকে বাঁচবে শহরবাসী এবং বিভিন্ন কাজে শহরে আসা মানুষরা। কিন্তু এক শ্রেণির শহরবাসীর বেহিসেবী কাজের জন্য পুরসভার সেই পরিকল্পনা কিছুটা হলেও ব্যর্থ হতে চলেছে।

       এবিষয়ে সদ্য নির্বাচিত কাউন্সিলর, যদিও এখনো শপথ গ্রহণ করেননি, সুমন্ত ঘোষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে  তিনি বলেন - একজন শহরবাসী হিসাবে বলতে পারি এটা সত্যিই একটা বড় সমস্যা। সমস্ত শহর যাতে নির্মল ও পরিচ্ছন্ন থাকে তার জন্য আমরা প্রতিটি কাউন্সিলর এলাকার মানুষকে সচেতন করার চেষ্টা করব। কাউন্সিলর হলেও আমরা প্রত্যেকেই এই শহরেরই বাসিন্দা। কাউন্সিলরদের বাড়তি দায়িত্ব হলেও আমাদের প্রিয় শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখতে হলে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।

      অন্যদিকে শহর তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি তথা পুরপ্রশাসক মণ্ডলীর অন্যতম সদস্য কুশল বাবু বললেন - কিছু ব্যতিক্রম থাকলেও গুসকরা শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখার বিষয়ে অধিকাংশ শহরবাসী, এমনকি যারা বিভিন্ন প্রয়োজনে শহরে আসে তারাও, খুবই সচেতন। যেটুকু ত্রুটি আছে আশাকরি সবার প্রচেষ্টায় সেটাও শীঘ্রই দূর হবে। চেষ্টা করব প্রতিটি ওয়ার্ডের মানুষকে সচেতন করার। আমরা প্রত্যেকেই আমাদের প্রিয় শহরকে খুব  ভালবাসি। তাকে পরিচ্ছন্ন রাখার দায়িত্ব আমাদের সবার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *